আজ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী, দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি – আজ ১৯ জানুয়ারি স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। তার ডাক নাম ছিল কমল। শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন।
শৈশব ও কৈশোরের একটি অংশ তিনি বগুড়া ও কলকাতায় কাটান। এরপর পিতার সঙ্গে তার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন ছিল বর্ণাঢ্য। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি বারবার সামনে এসেছেন এবং দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করেছেন। নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। সময়ের প্রয়োজনে প্রায় সাড়ে চার দশক আগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
তার প্রতিষ্ঠিত এই রাজনৈতিক দলটি তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। বেগম খালেদা জিয়াও দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বে রূপ নেন। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা এবং বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
অসাধারণ দেশপ্রেম, সাহসিকতা, সততা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের জন্য জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি খেমকারান সেক্টরে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার স্বতন্ত্র নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে তিনি বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত করে তোলেন। তার শাসনামলে জাতির মর্যাদা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়।
সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনে তার সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম আজও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে তার পরিচিতি সবার কাছে পরিচিত। সময়ের পরীক্ষায় শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা উত্তীর্ণ হয়েছে। স্বাধীনতার পর তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল।
এদিকে জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শনিবার ১৭ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দল ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের জন্য এই কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম দিনব্যাপী পালন করা হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করবে বিএনপি। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এসব কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
এনএন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬









