জাতীয়

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি – ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন এতে যুক্ত না হওয়ায় একই প্রক্রিয়ায় বাকি ৪৭টি আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে সমঝোতা হবে, সেখানে নির্ধারিত প্রার্থী ছাড়া অন্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। ১৯ জানুয়ারির আগে নতুন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলনের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর ১০ দল এখন তাদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি ধরেই কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় জোটে থাকা ইসলামপন্থি দলগুলো ঠিক পথে আছে কি না— এমন প্রশ্ন তোলা হলেও তার দল মনে করে, তারা সঠিক পথেই আছে। সবার অনুভূতি এক রকম নাও হতে পারে, তবে অন্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথাও তিনি বলেন।

ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সমঝোতার বাইরে থাকার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে না। বরং সবাই একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা উচিত।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন চালু করবে না— ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগের ব্যাখ্যায় মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ ছিল বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাস্তবতা। একদিনে বা হঠাৎ করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়— এই বাস্তবতার কথাই তিনি বলেছেন। এতে কোনো অসঙ্গতি নেই।

ইসলামী আন্দোলন সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং সেই অঙ্গীকার থেকে দলগুলো সরে যায়নি। তাই নির্বাচনে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।

এনএন/ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language