ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন মাচাদো

ওয়াশিংটন, ১৬ জানুয়ারি – ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তিনি এই পদক দেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মাচাদো নিজেই বলেন, তিনি ট্রাম্পের হাতে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি প্রথম সাক্ষাতের পর মাচাদো বলেন, তার মতে এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।
কারাকাসে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দেশটির বিরোধী নেত্রী হিসেবে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাবেন। কারণ, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাদুরোকে সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রাম্প মাচাদোকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর বদলে তিনি সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
গত সপ্তাহে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। তবে পরে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
নোবেল কমিটি গত সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে সেটি বাতিল করা যায় না, ভাগ করা যায় না এবং অন্য কারও কাছে হস্তান্তরও করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং স্থায়ী।
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার নোবেল পিস সেন্টার এক্সে লিখেছিল, একটি পদকের মালিক পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি পরিবর্তন করা যায় না।
এদিকে, ওয়াশিংটন সফরের সময় মাচাদো কংগ্রেসে গিয়ে মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে প্রত্যাশা ছিল, তিনি দেলসি রোদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়া যে ভুল, তা বোঝানোর চেষ্টা করবেন এবং তার বিরোধী জোটই এই রাজনৈতিক রূপান্তরের দায়িত্বে থাকা উচিত—এমন দাবি তুলবেন।
বৈঠক চলাকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের কাছে এক সাহসী ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তিনি জানান, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় মানুষের বর্তমান বাস্তব জীবন নিয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ৩ জানুয়ারি আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত ভেনেজুয়েলার তেলখাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ৫০ কোটি ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম চালান বিক্রি সম্পন্ন করেছে।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল বহন করছে—এমন সন্দেহে কয়েকটি ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনী ষষ্ঠ একটি ট্যাংকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬









