আসন্ন নির্বাচন ও রমজান মাসকে সামনে রেখে রেমিট্যান্সে বাড়ছে গতি

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে। সময় যত এগোচ্ছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস প্রবাসী আয়ও তত বাড়ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভালো প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানকে ঘিরে প্রবাসীরা পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হন। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ডলার। সে সময় ঈদুল ফিতর সামনে থাকায় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয় বাড়ার এই ধারা বজায় রয়েছে। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে আসছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে আকুর বিল হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।
এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬









