গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি – ফিলিস্তিনের গাজায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনী আইএসএফে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যদি এই বাহিনীতে যেতে হয়, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকার এসে নেবে। আর বর্তমান সরকার এমন কোনো কাজ করবে না বা করছে না, যেটা এই সরকার চলে গেলে পরের সরকার এসে উল্টে দিতে হবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশ নিতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। এটি নিরাপত্তা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত মত, নাকি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত— এমন প্রশ্ন করা হলে তৌহিদ হোসেন বলেন, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নীতিগত সিদ্ধান্ত বলতে বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। কারা থাকবে, কারা থাকবে না— সেটাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে মূল কথা হলো, যে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে, সেই পরিবেশ তৈরি না হলে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। আমরা সেখানে লড়াই করতে যাব না।
তিনি আরও বলেন, সেখানে যদি এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা কথা বলা সম্ভব না, তাহলে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। আমাদের শর্তগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। আসলে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে। এই সরকার থাকবে না। কিছু ব্যক্তি চলে যাবেন, আবার অন্যরা এসে দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু দেশের সম্পৃক্ততা ও স্বার্থ মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটা সরকার বদল হলে পরের সরকার এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তনটা খুব মসৃণ হবে। আমরা আশা করছি ৫ আগস্টের মতো কিছু হবে না। অবশ্যই যদি আইএসএফে ডেপ্লয়মেন্টের কোনো সিদ্ধান্ত আসে, সেটা পরবর্তী সরকারই নেবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
এনএন/ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬









