লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি – লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে পাঁচ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার পুরস্কার ঘোষণা করলেও এসব অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিটে উল্লেখ করা হয়, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা এই ঝুঁকির বাস্তব প্রমাণ।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও নির্বাচন পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের ‘জীবনের অধিকার’ লঙ্ঘনের শামিল হবে।
এ কারণে রিটে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দাবিতে গত ১৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার ধারাবাহিকতায় এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
এনএন/ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬








