প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি – বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে তার মনোনয়ন বাতিলের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মান্না বলেন, “আমি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছি, এবারও করছি। অথচ আমাকে বিরোধিতা করতে বা মনোনয়ন বাতিল করতে যে কূটকৌশল করা হয়েছিল, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।”
কোনো রাজনীতিবিদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে “কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়। ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘ হলে ষড়যন্ত্র টেকে না—আজকের রায় তার প্রমাণ।”
প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে মান্না বলেন, এর উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়, বরং মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সংশোধন বা সময় দিয়ে ঠিক করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা দেওয়ার বিধান আছে। তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায় বলেই পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে, নইলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।”
গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, “রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, সেটিকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ ছাড়া কিছু থাকে না। ক্ষমতার জন্য এমন পথ কখনোই গণতন্ত্রের হতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক, সমগ্রের কাছে সবাই ছোট—এই মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র কার্যকর হবে না।”
ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার হন। তবে এই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে মান্না বলেন, কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। “প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে বিজয় অর্জনের মানসিকতা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে।” তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না; অনেক জায়গায় নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এনএন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬









