তীব্র শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, বাড়ছে দুর্ভোগ

কুড়িগ্রাম, ১০ জানুয়ারি – তীব্র শীত ও হিমশীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় কাঁপুনি বাড়ছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ—এ তথ্য জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতের কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রিকশাচালক আশিক মিয়া বলেন, “শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারিনি। আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, “ঠান্ডার জন্য কাজ করা যায় না, বাচ্চাদের নিয়েও বাইরে বের হওয়া কঠিন। খুব সমস্যায় আছি।”
একই উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের জেলে বাবু মিয়া জানান, “বিলে আর নদীতে নামা যাচ্ছে না। শীতের কারণে কয়েক দিন ধরে মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এদিকে শীতের প্রভাবে জেলায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “শীতে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জেলার নয়টি উপজেলায় আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, “জেলার নয়টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
এনএন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬









