সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ রোধেই এই গণভোট

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি – ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনা করবেন, তারা যেন আর কখনো ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, সেই পথ বন্ধ করতেই এবারের গণভোট—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এতে দেশের নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে চারশ এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আসন্ন গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যারা দেশ পরিচালনা করেন, তারা বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণেই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।
গণভোট কী বা কেন—এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনের মতোই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—একটি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং অন্যটি গণভোটের জন্য রঙিন ব্যালট।
গণভোট নিয়ে জনমত সৃষ্টি ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আগের সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন কিংবা নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে কষ্টে আছেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই এই দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব আমাদের অন্যতম বড় সংকট। গণভোটে জনগণের সম্মতির মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথ আরও সহজ হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটে এনজিও ও উন্নয়নকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি এনজিও প্রতিনিধিদের বলেন, মানুষের আপনাদের ওপর আস্থা রয়েছে। তাই প্রান্তিক মানুষের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তান আমলে শাসকগোষ্ঠী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যেখানে নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। গণভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা গেলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তা না হলে দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত সংস্কার এবং গণভোটসংক্রান্ত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।
এ সময় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া বলেন, দেশের এনজিওগুলোর প্রত্যক্ষ ৫০ থেকে ৬০ লাখ উপকারভোগী, তাদের পরিবার এবং পরোক্ষ উপকারভোগীদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এনজিওগুলো এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এনএন/ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬









