অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ০৮ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত যাতে বিশৃঙ্খলায় না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তেল উত্তোলন, বিপণন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে ‘ঢেলে সাজানোর’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংস্কারের প্রথম ধাপ। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং তাদের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো পক্ষকে তেল খাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্যভাবে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে সাগরপথে তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম—প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া অপরিশোধিত তেলের মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় উত্তোলন ও পরিশোধনে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। তবে এই তেল থেকে উচ্চমানের ডিজেল, অ্যাসফল্টসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব।
প্রসঙ্গত, গত ৩ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজল্ভ’ নামে এক সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এনএন/ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬









