নির্বাচনে অপকর্ম করলে কেউ ছাড় পাবে না

চট্টগ্রাম, ০৬ জানুায়রি – নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের অপকর্ম করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা সেলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে অভিযানগুলো পরিচালনা করছে, সেগুলোর তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি। কেউ যেন অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার আশা না করে। অপকর্ম করলে ধরা পড়তেই হবে—এ বার্তা স্পষ্টভাবে দিতে হবে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হবে বলেও জানান তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন ঘিরে সাধারণত অস্ত্রের সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও আনুমানিক ১৫ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রায় ৮৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবশিষ্ট অস্ত্রগুলো মাঠে রয়ে গেছে, যেগুলো দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।
হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনুমানিক ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ গোলাবারুদ উদ্ধার করা গেছে। শতভাগ উদ্ধার সম্ভব না হলেও যারা এসব অস্ত্র নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা গেলে এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলে জনগণের আস্থা বাড়বে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পকেন্দ্রিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকে পড়লে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রোহিঙ্গাদের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এনএন/ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬









