আসামি দোষী না নির্দোষ, এর বাইরে অন্য কোনো বক্তব্য আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই

ঢাকা, ০২ নভেম্বর – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, আসামি দোষী না নির্দোষ, এর বাইরে অন্য কোনো বক্তব্য আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রোববার (২ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়— তিনি নিজেকে নির্দোষ মনে করেন নাকি দোষী। তিনি দোষী বললে আদালত এর ভিত্তিতে রায় দিতে পারেন, আর নির্দোষ বললে মামলাটি বিচারের জন্য সাক্ষ্যপ্রমাণের পর্যায়ে যাবে।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি একটা জবাবই শুধু দিতে পারবেন। সেটা হচ্ছে দোষী না নির্দোষ। এর বাইরে তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা আমলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হিসেবে ইনু একজন প্রভাবশালী নেতা। জোটের মিটিংয়ে আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং শ্যুট অ্যাট সাইটের ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’র কারণে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গঠন হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং ছাত্রদের সন্ত্রাসী, জামায়াত-শিবির, বিএনপি বলে হত্যা করার যৌক্তিক বা বৈধতা তৈরি করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ড্রোন-হেলিকপ্টার ব্যবহার, বোম্বিং করাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ইনু। তিনি শেখ হাসিনাকে ছাত্র-জনতাকে কীভাবে আটক করা উচিত বা জেলে না পাঠিয়ে কি করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শও দিয়েছিলেন। আট নম্বর অভিযোগটি ছিল কুষ্টিয়া শহরে গত বছরের ৫ আগস্ট ইনুর নির্দেশে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ মিলে ছয় ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩০ নভেম্বর এ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ০২ নভেম্বর ২০২৫









