পশ্চিমবঙ্গ

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির ভয়ে আসেননি, রেলের অনুষ্ঠানে তৃণমূল বিধায়কের অনুপস্থিতিতে কটাক্ষ বাবুলের

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ০৮ ফেব্রুয়ারি – বাবুল সুপ্রিয়র (Babul Supriyo) উপস্থিতিতেই রেলের অনুষ্ঠানে উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। ওই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রইলেন কুলটির বিধায়ক উজ্বল চট্টোপাধ্যায়। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির প্রসঙ্গ তুলে ও বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় কটাক্ষ করলেন কুলটির তৃণমূল বিধায়ককে। বাবুল সুপ্রিয় বললেন, “রাম নামের ভয়েই অনুষ্ঠানে আসেননি উজ্বলবাবু।” যদিও বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তিনি পাননি।

পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের সীতারামপুর স্টেশনে আপার ক্লাস ওয়েটিং হল বা উচ্চ শ্রেণির প্রতীক্ষালয় ও নবনির্মিত স্টেশন শৌচালয় কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল সোমবার। অনুষ্ঠান মঞ্চে ফ্লেক্সের উদ্বোধক হিসাবে নাম ছিল আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল কুলটির তৃণমুল কংগ্রেসের বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের (Ujjwal Chatterjee)। তার নামে মঞ্চে নির্দিষ্ট চেয়ারও রাখা হয়েছিল। বাবুল সুপ্রিয় অনুষ্ঠানে এলেও আসেননি কুলটির বিধায়ক। আর এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আরও পড়ুন : এই ভোট কি কেচ্ছা আর ব্যক্তি-আক্রমণে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে

এদিন বাবুল বলতে উঠতেই অনুষ্ঠানে আসা বিজেপির নেতা ও কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলেন। বাবুল তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে সব অধিকার আছে নিজের মতো ধর্মাচারণ করার। এই যে এদিনের অনুষ্ঠানে কুলটির বিধায়ককে ডাকা হয়েছিল। তার নামে চেয়ারও রাখা হয়েছিল। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির ভয়ে তিনি আসেননি। তবে রেলের তরফে বিধায়কের চেয়ারে একটা পুষ্পস্তবক ও জলের বোতল রেখে দিলাম। পরে সময় করে বিধায়ক স্টেশনে এসে নিয়ে যাবেন আশা করি। কারণ, তিনি এই স্টেশন নিশ্চয়ই ব্যবহার করেন।” এরপরেই তিনি তোপ দেগে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীরা মানুষের ভাল কাজে কোনদিনই ছিলেন না৷ এদিনের মঞ্চে বাবুল বলেন, “অনেকে এখন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শুনলেই রেগে যাচ্ছেন। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা এবার রামকার্ড নিয়েই খেলব। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে ভাল পরিষেবা দেওয়া। তার জন্য প্রতিটি স্টেশন সুন্দর হওয়া দরকার। যাতে সাধারণ মানুষের স্টেশনে এসে কোন সমস্যা না হয়।”

অন্যদিকে, কুলটির বিধায়ক বলেন, “আমি ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে ভয় পাই না। কার্ডে ও ফ্লেক্সে নাম থাকলে কি হবে। আমাকে তো রেল নিমন্ত্রণই করেনি। তাই যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।” পরে সংবাদমাধ্যমকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে পরিবর্তন চলছে। চলবে। কেউ তা আটকাতে পারবে না। আমাদের রথ এগোবে। কোথাও এই যাত্রা হবে গাড়িতে। কোথাও মোটর সাইকেলে। আবার কোথাও তা হবে মানুষের। কিছু কিছু জায়গায় দিদির পোষা গুণ্ডারা তার অনুপ্রেরণায় এই যাত্রা আটকানোর চেষ্টা করছে ও গণ্ডগোল করছে।” কয়লা পাচারের মামলায় রাজ্য পুলিশের সিআইডির তদন্ত করা নিয়ে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “ওইসব করে লাভ নেই। যারা জেলে ঢোকার তারা ঢুকবেই।”

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
এন এ/ ০৮ ফেব্রুয়ারি

Back to top button