ক্রিকেট

চোখ ধাঁধানো ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে যা বললেন কাইল মেয়ার্স

চট্টগ্রাম, ০৮ ফেব্রুয়ারি – অবিস্মরণীয়, অবিশ্বাস্য ইনিংস খেললেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার কাইল মেয়ার্স।

রোববার অভিষেক ম্যাচে ২১০ রানের ইতিহাসগড়া ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছেন তিনি।

নাম লেখালেন বিশ্বরেকর্ডের খাতায়। প্রথম শতক হাঁকিয়ে প্রথমে ইতিহাসে ১৫তম ব্যাটসম্যান হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেন মেয়ার্স। ওই ১৫ জনের মধ্যে পেছনে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে। এর পর পেছনে ফেলেন সাবেক কিউই অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরিকে।

আরও পড়ুন : এমন হারের কারণ জানালেন মুমিনুল

এতেই ক্ষান্ত হননি তিনি। ডাবল সেঞ্চুরি করে বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়েন। অভিষেকে ৪র্থ ইনিংসে একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তিনিই। এমন রেকর্ড নেই বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটারের।

এসব রেকর্ডের ফুলঝুরির পসরা মিলিয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত ২৮ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর এমন সব কীর্তি গড়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেয়ার্স। ম্যাচশেষে শুনিয়েছেন অসাধ্য সাধনের গল্প।

ডাবল সেঞ্চুরি যে করবেন তা তার কল্পনায় ছিল না জানালেন এ ক্যারিবীয় ক্রিকেটার।

মেয়ার্স বলেন, ‘সত্যি বলতে– আমি সেঞ্চুরির চিন্তা করেছিলাম। একসময় দেড়শ করতে পারব বলে বিশ্বাস ছিল। আমি ভেবেছিলাম, ১৫০ করলে দল জয়ের জন্য ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু ১৬০ ছোঁয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, এবার আরও একটি শতকে নিয়ে যাওয়াই যায়। বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

৩৯৫ রানের পাহাড়ের লক্ষ্যের দিকে তাকাচ্ছিলেন না বলে জানান মেয়ার্স।

বললেন, ‘আমি আসলে লক্ষ্যের দিকে তাকাচ্ছিলাম না। আমার ভাবনায় একটা কথাই ছিল, যতক্ষণ সম্ভব দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। স্কোরবোর্ডের দিকে না তাকাতে চেষ্টা করে গেছি। যত বেশিক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ ব্যাট করতে। কারণ আমার নিজের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, আমি সারা দিন ব্যাট করতে পারলে দল জয় পাবে। এবং সেটিই হয়েছে।’

এমন অতিমানবীয় ইনিংসে খেলার পেছনে কোচ ও দলের সবার অনুপ্রেরণা কাজ করেছে বলে জানান মেয়ার্স।

এ অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি সবসময় ইতিবাচক থাকি। কখনও আশা ছাড়িনি এবং লড়াই চালিয়ে গেছি। ম্যাচ চলাকালীন অধিনায়ক ও কোচ বলেছিলেন, লড়াই চালিয়ে যাও। এ ছাড়া এই উইকেটে শ্যানন দারুণ এফোর্ট দিয়েছে, যা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি এবং ম্যাচ জিতে নেওয়া বিশেষ আনন্দের। কোচ, অধিনায়ক, সতীর্থ এবং দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। আমি প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ। অভিষেকে একজনের ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতানো তরুণ খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রাণিত করবে।’

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ০৮ ফেব্রুয়ারি

Back to top button