এশিয়া

এবার সু চির মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে নার্স-বৌদ্ধ ভিক্ষুরা

নেপিডো, ০৭ ফেব্রুয়ারি – সেনা অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল মিয়ানমার। শহর ও নগরগুলোতে টানা তৃতীয় দিনের মতো প্রতিবাদে হাজার হাজার লোক যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও নার্সরাও। খবর রয়টার্সের।

সোমবারের বিক্ষোভ থেকে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী অং সান সুচিসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

রাজধানী নেইপিদোতে বিক্ষোভে পুলিশ জলকামান ছুড়ে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নার্সরা প্রতিবাদে অংশ নিয়ে তিন আঙ্গুলের স্যালুট দেখিয়েছেন। মিসান নামে একজন নার্স বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, সব সরকারি কর্মকর্তাকে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মিয়ানমারে সেনা শাসন চিরতরে অবসান ঘটুক আমরা সেটিই চাই।

মিয়ানমারের এই বিক্ষোভে সব শ্রেণী পেশার লোকজন যুক্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক-নার্স ও ধর্মীয় সম্প্রদায় আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় বিক্ষোভ নতুন মাত্রা নিয়েছে।

গত সোমবারের ওই অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ যোগ দেওয়ার ও আইন অমান্য আন্দোলন ফের শুরু করার ডাক জোরদার হয়ে উঠছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

আরও পড়ুন : চোখের সামনে সংগ্রাম দেখলেন মহাত্মা দেবীকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল জল,কাদার স্রোত

সোমবার দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে প্রতিবাদ মিছিলে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গেরুয়া পোশাক পরা বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও যোগ দিয়েছেন এবং তারা সামনের সারিতে রয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) লাল ব্যানারের পাশাপাশি মিছিলে তারা বহুরঙা বৌদ্ধ পতাকাও উড়িয়েছেন।

মিছিলের একজনের হাতে উঁচু করে ধরা এক কাগজে লেখা ছিল, আমাদের নেতাদের মুক্তি দাও, আমাদের ভোটকে শ্রদ্ধা কর, সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান কর।

অন্য সাইনগুলোতে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র রক্ষা কর’, ‘স্বৈরতন্ত্রকে না বল’। অনেক প্রতিবাদকারী কালো পোশাক পরা ছিলেন।

১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে রোববার মিয়ানমারজুড়ে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ২০০৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে ‘গেরুয়া বিপ্লবের’ পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ‘গেরুয়া বিপ্লব’ মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সংস্কারের গতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল কিন্তু গত সোমবারের সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে ওই ধারা থমকে গেছে।

গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি ভূমিধস জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২ আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬ আসন।

কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দলটি নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। তার পর থেকেই দেশটিতে ফের সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেটিই সত্যি হল ১ ফেব্রুয়ারি।

এদিন ভোররাতে সুচিসহ দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের গ্রেফতার করে জান্তা সরকার। ফেসবুক-টুইটার ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করা হয়। এক বছরের জন্য ঘোষণা করা হয় জরুরি অবস্থা।

মিয়ানমার দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ২০০৮ সালে দেশটি গণতন্ত্রের পথে ধাবিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অধীনে ছিল। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণে মূল ভূমিকা রাখেন দেশটির স্বাধীনতার অবিসংবাদী নেতা অং সান। পরবর্তীতে তার মেয়ে অং সান সু চি ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি দল গঠন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূল ভূমিকা রাখেন। এ কারণে তাকে কয়েক বছর গৃহবন্দিও থাকতে হয়েছে।

সূত্র : যুগান্তর
এন এ/ ০৭ ফেব্রুয়ারি

Back to top button