জাতীয়

আ.লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথাই বলেননি প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকা, ০১ অক্টোবর – আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেননি বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, যিনি প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন, সেখানে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা কখনই বলেননি যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি কেবল আওয়ামী লীগের স্ট্যাটাস সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কোনোভাবেই উল্লেখ করেননি যে, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। অনুবাদে যদি কোনো বক্তব্য আংশিকভাবে বা প্রেক্ষাপট ছাড়াই নেওয়া হয়, তাহলে তা ভুল অর্থ প্রকাশ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে দেখা গেলে বোঝা যায়, প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা বা কার্যক্রমে কোনো ছাড়ের কথা বলেননি এবং এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এটি একটি অনুবাদজনিত সমস্যা। পিআইবির বাংলা ফ্যাক্ট চেক বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য স্পষ্ট- আওয়ামী লীগের ওপর বর্তমান থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথা তিনি বলেননি। নিষেধাজ্ঞা যেখানে আছে, সেখানে থাকবে। সরকারের কোনো পরিকল্পনাই নেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনও সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ফলে তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এটি স্পষ্ট এবং পরিষ্কার।

শফিকুল আলম বলেন, অনুবাদকারীরা প্রায়ই কোনো বাক্যের আগের প্রসঙ্গ দেখেন না। একটি বাক্যকে প্রেক্ষাপট ছাড়া (আউট অব কনটেক্সট) নেওয়া হলে ভুল অর্থ ফুটে উঠতে পারে। এই ক্ষেত্রে যে মেসেজটি তৈরি হয়েছে, তা সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর বলে মনে করেন তিনি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো অনিশ্চয়তা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা নেই। আমরা আশা করি, জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট সনদ দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তখন নির্বাচনে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করবে। গ্রামগঞ্জে গেলে দেখবেন, নির্বাচনের উৎসাহ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটি জায়গায় বড় বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা বারবার নিজের কথা জানাচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে নির্বাচনের উত্তেজনায় আছেন সবাই। আমরা আশা করছি, এই উত্তেজনা আরও বাড়বে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওর সাংবাদিক মেহদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অনেক মানুষ তো বলছে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। মানুষ নানা ধরনের কথাই বলে। তারা বলে নির্বাচনের দরকার কী? কার নির্বাচন দরকার?

মেহেদি হাসান একজন সম্প্রচার সাংবাদিক, লেখক ও মিডিয়া কোম্পানি জেটিওর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আলজাজিরা টেলিভিশনের টক শো ‘হেড টু হেড’-এর উপস্থাপক। ড. ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার ফাঁকে মেহেদি হাসানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। জেটিওতে মূল সাক্ষাৎকারের তিন মিনিটের একটি ক্লিপ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রচার করা হয়।

মেহেদি হাসান: আপনার অন্তর্বর্তী সরকার এক বছর ধরে ক্ষমতায়। আপনি বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে। এটা আরও পরে হওয়ার কথা ছিল। আপনি ফেব্রুয়ারিতে এগিয়ে এনেছেন…

প্রধান উপদেষ্টা: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, তাও রমজানের কারণে।

মেহেদি হাসান: আপনি সাক্ষাৎকারের শুরুতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখন কাজ দেখতে চায়। সমালোচকরা বলছেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। নির্বাচনের জন্য আরও ছয় মাস অপেক্ষা করা খুব দীর্ঘ। মানুষ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। কেন আমরা এর আগে নির্বাচন করতে পারছি না? নেপালের অন্তর্বর্তী নেতা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন বাংলাদেশে ১৮ মাস লাগছে?

প্রধান উপদেষ্টা: নিশ্চিয়ই! আপনি জানিয়েছেন, মানুষ বলছে কেন এত সময় লাগছে। আবার এমন মানুষও আছে যারা বলেন, পাঁচ বছর থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। সুতরাং, মানুষ সব ধরনের কথাই বলছে। তারা বলছে, আপনি থাকুন। নির্বাচনের দরকার কী? নির্বাচন কার দরকার?

মেহেদি হাসান: এমন কথা যারা বলছেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা বলেন, কেন আমরা তাড়াতাড়ি নির্বাচন করতে পারছি না? এই বিলম্ব কীসের জন্য?

প্রধান উপদেষ্টা: যখন তারা এই কথা বলে, তখন তা গণতন্ত্র নিয়ে নয়, সুশাসন নিয়ে কথা বলে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত শাসন দেখতে চাই। সে জন্যই তারা বলে, আপনি থাকুন! কারণ নির্বাচনের পর আমরা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে চাই না। আপনি এক ধরনের মতামত তুলে ধরেছেন, আমিও আরেক ধরনের মতামত তুলে ধরলাম। কোনটি বেশি শক্তিশালী?

মেহেদি হাসান: কিন্তু আপনি কি আজ বলবেন, নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে এত সময় লাগার কারণ কী?

প্রধান উপদেষ্টা: আমরা অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা কতদিন থাকব তা কেউ নির্ধারণ করে দেয়নি। আমরা কতদিন থাকব সে সিদ্ধান্ত আমাদের। তবে আমাদের তিনটি কাজ করতে হবে। একটি হলো সংস্কার, একটি বিচার এবং শেষটি নির্বাচন। আমরা সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি। এটি একটি বিরাট এজেন্ডা। আপনি যদি শুধু নির্বাচন করেন, তবে সেই পুরোনো বিষয় আবার ঘটবে। কারণ আইন, নিয়ম, পদ্ধতি একই রয়ে গেছে। তাই ছাত্রদের নেতৃত্বে জনগণের একটি দাবি হলো সংস্কার করা। সুতরাং, আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, ফ্যাসিবাদের সব শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে, যাতে ভিন্ন ধরনের কাঠামো তৈরি হয়; যাতে আগের মতো সরকার আবার ফিরে আসতে না পারে। সেটাই আমাদের এজেন্ডা।

মেহেদি হাসান: কিন্তু আপনি কি এই যুক্তিটি বোঝেন, যেহেতু আপনারা অন্তর্বর্তী সরকার, তাই আপনাদের ন্যূনতম মৌলিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং বড় সিদ্ধান্তগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নেওয়া উচিত?

প্রধান উপদেষ্টা: এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। আমরা শুধু বলেছি, তিনটি কাজ আমাদের দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটা করব।

সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language