মাদারীপুর

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করলেন কালকিনির মেয়রপ্রার্থী

মাদারীপুর, ০৭ ফেব্রুয়ারি – মাদারীপুরে নির্বাচনী মাঠ থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কালকিনির স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ।

তিনি জানান, ‘সে সময় ওবায়দুল কাদের তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন।’

তবে জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন স্বতন্ত্র এই মেয়রপ্রার্থী।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কালকিনির দক্ষিণ কৃষ্ণনগরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান মশিউর রহমান সবুজ।

আরও পড়ুন : স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী নিখোঁজের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও-সংঘর্ষ, আহত-২০

তিনি বলেন, ‘কালকিনি থানার ওসির গাড়িতে করে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যায়। পরে নিজ গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে যান পুলিশ সুপার। সেখান থেকে ওবায়দুল কাদেরর সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান জানান, মেয়রপ্রার্থী সবুজ নিজ বাড়িতে আছেন। তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে, পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছে এ বিষয়টি অস্বীকার করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সবুজ ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং রাতেই ফিরে এসেছেন বলেও জানান আব্দুল হান্নান।

এদিকে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে ফিরেন সবুজ। এ ঘটনায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা। তারা চান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। তবে, অপহরণ বা নিখোঁজের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পুলিশ।

নিখোঁজের ঘটনায় স্বজন ও সমর্থকরা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি কল দেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তাৎক্ষণিক সেখানে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিরউদ্দিন গাড়ি নিয়ে হাজির হন। পরে সেখান থেকে সবুজকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরই নিখোঁজ হন সবুজ। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে কালকিনি থানা ঘেরাও করেন সবুজের সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কালকিনি-ভুরঘাটা ও কালকিনি-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালান নৌকার সমর্থকরা। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে আহত হন অন্তত অর্ধশত মানুষ। ভাঙচুর করা হয় বেশকিছু দোকানপাট। আড়াই ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সূত্র : নতুন সময়
এন এইচ, ০৭ ফেব্রুয়ারি

Back to top button