শিক্ষা

শাস্তি প্রত্যাহার চেয়ে খুবি প্রশাসনকে ৩ শিক্ষকের আইনি নোটিশ

খুলনা, ০২ ফেব্রুয়ারি – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) তিন শিক্ষককে বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা ইয়াসমিন বলেন, ‘শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে আজকে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এ অন্যায় বহিষ্কারাদেশ যতদিন প্রত্যাহার না হবে, ততদিন আমরাও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

একই দাবিতে এদিন কয়েকজন শিক্ষকও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন : শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা হতে শেখাবো: দীপু মনি

প্রশাসনের এ বহিষ্কারাদেশ অনিয়মতান্ত্রিক ও সংবিধান বহির্ভূত উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে দ্রুতই তাদের বোধোদয় ঘটবে এবং তারা এ অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। যদি তারা সরে না আসে তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’

এনভায়রনমেন্টাল ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে আাদালতের রায়ের ভিত্তিতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অন্যায্য বা নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার জন্য যাদের প্রতিষ্ঠা তারাই আজ প্রশাসনের আজ্ঞাবহ কর্মীর কাজ করছে। তারা শিক্ষকদের চাঁদা নিয়ে শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ না করে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছে। আমরা তাদের ধিক্কার জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা যে আদালতে গেছেন এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু প্রশাসন যদি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে তাদের খড়গের শিকার হয়ে আদালতে যেতে হবে। আমরা চাই না আর কোনো শিক্ষককে আদালতের বারান্দায় যেতে হোক।’

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছে, সে পর্যন্ত যদি তারা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে তাহলে শিক্ষক নেটওয়ার্ক যে কর্মসূচি দেবে, আমরা সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১২তম সভায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি, অসদাচরণ, প্রশাসনবিরাধী কার্যক্রমসহ নানা অভিযোগে বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত এবং একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম ও ইতিহাস সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বরখাস্ত ও অপসারণ আদেশ প্রত্যাহার করতে গত ৩১ জানুয়ারি খুবি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০২ ফেব্রুয়ারি

Back to top button