দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে বাজেট পেশ :কৃষকদের জন্য বিশেষ কিছুই নেই

নয়াদিল্লী, ০২ ফেব্রুয়ারি – যতটা প্রত্যাশা ছিল তা পূরণ হয়নি মোদি সরকারের বাজেটে। করোনার পর কৃষকদের বিক্ষোভ আর আসন্ন পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাজেটটি ভিন্ন ধরনের হলেও হতে পারত। কিন্তু দিনের পর দিন বিক্ষোভের পরেও মোদি সরকারের বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ কিছু ছিল না।

ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম পেপারলেস বাজেটে এই সব দিকগুলিই ছুঁয়ে গেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বেশ কিছু ঘোষণা করেছেন। তবে সেইসব ঘোষণা প্রত্যাশাপূরণ করেছে কি?

সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়ার আগে দেখতে হবে, সীতারামনের বাজেটে এইসব বিষয়ে কী বলা আছে। প্রথমেই দনেওয়া যাক কৃষি ও কৃষক নিয়ে নির্মলা সীতারামনের ঘোষণা। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি উৎপাদনের দেড় গুণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সীতারামন। চাল, গম, তুলোয় সহায়ক মূল্য দিতে কত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে সেই হিসাবও তিনি দিয়েছেন। কিন্তু সেসব নতুন কোনো ঘোষণা নয়।

তিনি বলেছেন এবং হিবেব দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন, সরকার আগের তুলনায় এমএসপি অনেক বাড়িয়েছে। সরকার এমএসপি চালু রাখবে এবং কৃষকদের কাছ থেকে এমএসপিতে ফসল কিনবে। কিন্তু কৃষকদের প্রধান দাবি ছিল, এমএসপিকে আইনি মান্যতা দিতে হবে। বাজেটে সে বিষয়ে একটি কথাও নেই।

আরও পড়ুন : সংঘাত নিয়ে মিয়ানমারের মতই উদ্বিগ্ন ভারত

কৃষকদের আশঙ্কা, সরকার এমএসপি চালিয়ে যাবে ঠিক আছে, কিন্তু ফসল কেনার পরিমাণ তারা কমিয়ে দিলে কী হবে? আর বেসরকারি সংস্থা এমএসপিতে ফসল কেনে না। তাদের কী করে এই দামে কিনতে বাধ্য করবে কেন্দ্র? এর কোনো জবাব সীতারামনের বাজেটে নেই।

বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, কৃষকদের ঋণ দেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। মাইক্রো ইরিগেশন ফাণ্ডে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। গ্রামের পরিকাঠামোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ করা হবে। কৃষকরা যাতে আরো বেশি ফসল বিদেশে বেঁচতে পারেন, তার জন্য আরো ২২টি ফসল অপারেশন গ্রিন স্কিমে আনা হয়েছে।

কৃষক নেতা এবং স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা যোগেন্দ্র যাদবের দাবি, বাজেটে পিএম কৃষক প্রকল্পে আসলে অর্থবরাদ্দ কমানো হয়েছে। গতবছর ৭৫ হাজার কোটি টাকা কৃষিতে দেয়া হয়েছিল। এবার কমিয়ে করা হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বরাদ্দ মোট বাজেটের পাঁচ দশমিক এক শতাংশ থেকে কমিয়ে চার দশমিক তিন শতাংশ করা হয়েছে। যোগেন্দ্রের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনে এফসিআই। তাদের বরাদ্দও কমানো হয়েছে।

বেশ কিছু রাজ্য ভোটে আসন্ন। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম আছে। প্রতিটি রাজ্যের জন্য কিছু ঘোষণা আছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির জাতীয় সড়ক পুরোটা সারানো হবে। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তাঘাটের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। মোট ৬৭৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। বাজেট ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সুখবর এটুকুই। মেট্রো রেলের জন্য নতুন কোনো ঘোষণা করেননি সীতারামন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ভোট এসেছে, এখন ওরা বলছে রাস্তা বানিয়ে দেবে। দরকার নেই। আমিই সব রাস্তা বানাব। গ্রামে রাস্তা বানিয়েও দিয়েছি। ওরা বিক্ষোভরত কৃষকদের দাবি মানুক।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০২ ফেব্রুয়ারি

Back to top button