জাতীয়

প্রতিমাসে গড়ে ৩ নবজাতক মিলে সড়ক বা ডাস্টবিনে

ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারি – দেশের সড়ক, ডাস্টবিন, ঝোপে প্রতিমাসে অন্তত গড়ে তিন নবজাতক পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলে। কারোরই অভিভাবকের সন্ধান মেলে না কখনও। উদ্ধারের পর এসব নবজাতক সরকারি বা বেসরকারি জিম্মায় থাকলেও অনেকের ভাগ্যে করুণ মৃত্যুও জোটে। এসব ক্ষেত্রে কখনও কখনও হত্যা মামলা হলেও ধরা পড়ে না নবজাতক বা ভ্রূণ হত্যায় জড়িত কেউ।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে এক কলারের ফোন কলে ডাস্টবিনের পাশ থেকে এক বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার পুলিশ।

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি থেকে লাবিব নামে একজন পথচারী কলার ফোন করে জানান, সেখানে একটি ডাস্টবিনের পাশে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় একটি এক বছর বয়সী কন্যাশিশু পাওয়া গেছে। শিশুটিকে প্রায় ২/৩ ঘণ্টা পূর্বে ঘুমন্ত অবস্থায় ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন আর পথচারীরা। তারা আশপাশে খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু বাচ্চার অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন বাচ্চাটি ঘুম থেকে জেগে উঠে কান্নাকাটি করছে। সেখানকার লোকরা শিশুটিকে বিস্কুট পানি এসব খাওয়ানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু কান্না থামাতে পারছিল না। একজন তখন সহায়তা চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন।

আরও পড়ুন : পদ্মা সেতুর যে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন প্রকৌশলীরা

৯৯৯ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় জানায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে কোতোয়ালী থানার এএসআই সাদেক ‘৯৯৯’-কে ফোনে জানান তিনি কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসছেন। পরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে ‘উপলব্ধি’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবার পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, ‘শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট ২০৫টি মৃত নবজাতক উদ্ধার হয়। যার মধ্যে ২০১৯ সালে ৪২টি, ২০১৮ সালে ৩৯টি, ২০১৭ সালে ২৪টি, ২০১৬ সালে ২৮টি, ২০১৫ সালে ৫২টি মৃত নবজাতক ছিল। এদের কারও বাবা-মায়ের পরিচয় মেলেনি।

নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, ‘নির্মমতার শিকার নবজাতকদের আইনি সহায়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। তাদের সঙ্গে যা ঘটে তা সকল নিষ্ঠুরতাকে হার মানায়। এটা কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গুরুতর অপরাধ।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ০২ ফেব্রুয়ারি

Back to top button