এশিয়া

জরুরি অবস্থা শেষ হলে মিয়ানমারে নতুন নির্বাচন

নেপিডো, ০১ ফেব্রুয়ারি – চলমান জরুরি অবস্থা শেষ হলে মিয়ানমারে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তারা বলছে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। সেনা অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা পর এমন তথ্য জানানো হলো।

সামরিক বাহিনীর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা প্রকৃত বহু-দলীয় গণতন্ত্র চর্চা করব… যেখানে পূর্ণ ভারসাম্য এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর এবং জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ভারত। এ ছাড়া মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে অন্য দেশ ছাড়াও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন : সংঘাত নিয়ে মিয়ানমারের মতই উদ্বিগ্ন ভারত

আজ সোমবার সকালে মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, দেশের ক্ষমতা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমারের ক্ষমতা এখন সেনাবাহিনীর দখলে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এর আগে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে সেনাবাহিনী। আজ সকালে অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট।

গত কয়েকদিন ধরেই সু চির বেসামরিক সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তারপর থেকেই মূলত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা হয়। প্রথম থেকেই সেনাবাহিনী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আসছিল।

নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনেই মূলত সোমবার ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি লোকজনকে বলব চটজলদি এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। আমি চাই সবাই আইন মেনে চলবেন।’

সূত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ০১ ফেব্রুয়ারি

Back to top button