হবিগঞ্জ

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাৎ করতেন মুক্তিযোদ্ধা, ৪ লাখ টাকায় আপস

হবিগঞ্জ, ২৯ জানুয়ারি – হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আরেক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনে অভিযোগ করলে স্থানীয়ভাবে চার লাখ টাকায় বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌমহনী ইউনিয়নের কমলানগর গ্রামের লতিফ হোসেনের স্ত্রী আমিরুন্নেছার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আমির হোসেনের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করতেন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ হোসেন। ওই ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ করেন আমিরুন্নেছা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলাবক্সপুর গ্রামের ফরিদ হোসেন গত ১০ বছর ধরে তার শহীদ ছেলের নামে প্রদত্ত ভাতার অর্ধেক নিতেন ফরিদ হোসেন।

লিখিত অভিযোগের পর ক্যাপ্টেন (অব.) কাজী কবির উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকতা, চৌমুহনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপন মিয়া, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সেলিনা আক্তার ঘটনাটি আপোষ করতে আমিরুনেছার পরিবার ও ফরিদ হোসেনকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বসেন। সেখানে ফরিদ হোসেনকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি আপোষে নিষ্পত্তি করেন তারা।

আরও পড়ুন : হাসপাতালে মেডিকেল চিকিৎসকের কাজ করেন সহকারী

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেনের ভাতিজা নাঈম মিয়া জানান, কমান্ডার ফরিদ হোসেন তাদের কাছ থেকে চেক বই নিয়ে যান। চেক বই থেকে টাকা তুলে ফরিদ হোসেন অর্ধেক টাকা নিতেন। অভিযোগ করার পর সবাই বসে ফরিদ হোসেনকে চার লাখ টাকা দিতে বলেন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেনের ভাইয়ের স্ত্রী নুর জাহান বলেন, ‘ফরিদ হোসন ১০-১২ বছর ধরে টাকা তুলে নিচ্ছেন। আমাদের ভয় দেখাতেন- কাউকে বললে ভাতার টাকা বাতিল হয়ে যাবে।’

চৌমুহনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আপন মিয়া জানান, কমান্ডার ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। ক্যাপ্টেন কবির ইউনিয়ন পরিষদে বসে বিষয়টি শেষ করে দিয়েছেন।

অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফরিদ হোসেন জানান, অভিযোগগুলো সমাধান হয়ে গেছে।

সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ২৯ জানুয়ারি

Back to top button