চট্টগ্রাম

যে ‘আশ্বাসে’ শেষ পর্যন্ত লড়েন ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম, ২৯ জানুয়ারি – চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন (চসিক) ঘিরে নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশের অভিযান শুরু হলে দলীয় মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম বিএনপির মধ্যম সারির কিছু নেতা। নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে থেকে এ দাবি আরও জোরালো হতে থাকে। কিন্তু ডা. শাহাদাত তা আমলে নেননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সুনির্দিষ্ট আশ্বাস’ পেয়েই তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়ে গেছেন।

গত বুধবার ভোটগ্রহণের পর শাহাদাত হোসেন ‘প্রহসনের নির্বাচনের’ অভিযোগ আনেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তা হলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন কেন? শাহাদাতের উত্তর-নির্বাচন কমিশন তাকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত ছিলেন। তবে শাহাদাতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্নকথা। মামলা-হামলার গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকায় সরে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছিলেন নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরা। শাহাদাত তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন- সরকারের শীর্ষপর্যায়ে তার কথা হয়েছে। মামলা

গ্রেপ্তার চললেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তিনি জয়ী হবেন। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, শাহাদাতের সঙ্গে থাকা একটি গ্রুপ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেছিল। মূলত ওই গ্রুপের আশ্বাসের কারণেই শাহাদাত সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেননি।

নির্বাচন ঘিরে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং ২০ মামলায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আসামি হয়েছেন। এসব কারণে নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এখন গ্রেপ্তার-মামলার জন্য শাহাদাত হোসেনের ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তাদের যুক্তি- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে গ্রেপ্তার-মামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। পালিয়ে বেড়াতে হতো না।

আরও পড়ুন : খেলা করছিল শিশুটি, মুহূর্তেই নিথর হলো দেহ!

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি মূলত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দূরদর্শীতার কাছে মার খেয়েছে। কারণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকলে তা হতো না। একই কারণে আওয়ামী লীগ তাদের দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেনি। কারণ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা মাঠে থাকাতে বিএনপি মনে করেছিল দুপক্ষের বিরোধের মাঝখানে তারা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে সুযোগ নেবে। নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারা এমন আলোচনাও করেছেন। কিন্তু দূরদর্শী রাজনৈতিক চালে আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখার কৌশলে জয়ী হয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী এবং সব কাউন্সিলর জয়ী করে এনেছেন।

জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ছিলাম। আমরা মনে করেছিলাম- কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ইশারায় কাজ করেছে। সেখানে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্র। আমরা দলের বিরুদ্ধে লড়তে পারি। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র যখন পক্ষ হয়ে যায় সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব।

নগর বিএনপির একজন নেতা বলেন, পাঁচ দিন ধরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছি আমরা। আমাদের কথাই শুনলেন না। তিনি নাকি ওপরে কথা বলেছেন। কোন এম্বাসিতে নাকি কারা কথা বলে আশ্বাসে দিয়েছে। এতে তিনি মনে করছেন নির্বাচনটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তিনিই মেয়র হবেন। এমন আত্মবিশ^াস থেকেই আমাদের এ অবস্থা। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা এমনিতেই মামলায় জর্জরিত। ঘরে থাকতে পারে না। নির্বাচন করে মামলার সংখ্যা বাড়িয়ে কোন লাভটা হলো?

বিএনপি আরেকটি সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে শাহাদাত হোসেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। রেজাউল করিমকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা এবং নিজের অনুসারী কাউন্সিলরদের মনোনয়ন না দেওয়ায় মনঃক্ষুণœ ছিলেন নাছির। এসব কারণে শাহাদাতের পক্ষে তার কাজ করার সম্ভাবনা ছিল। সুযোগটি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল শাহাদাতেরও। তবে আওয়ামী লীগ নাছির উদ্দীনকে সেই সুযোগ দেয়নি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, আমি কেবল নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ছিলাম। অন্য কিছু যদি কেউ বলে থাকে তা পুরোই মিথ্যা। নির্বাচন কমিশন এমন প্রহসনের নির্বাচন করবে, আমরা বুঝতে পারিনি। আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি চট্টগ্রামের রাজনীতিকে কলুষিত করছে। তাদের নগ্ন অবস্থানের কারণে প্রশাসনযন্ত্র আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।

সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ২৯ জানুয়ারি

Back to top button