চট্টগ্রাম

হিসাব মেলাতে পারছে না বিএনপি

চট্টগ্রাম, ২৯ জানুয়ারি – চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ফলাফলের হিসাব মেলাতে পারছে না বিএনপি। কারণ চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আর দলটির এই দুর্গে হানা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে মেয়র পদসহ সাধারণ বা সংরক্ষিত কোনো ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর পদে জয়ী হতে পারেনি দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা। আর এজন্য দলটির নেতাকর্মীরা এক অপরকে দোষারোপ করছেন।

তারা বলছেন, ভালো প্রার্থী সিলেকশন না হওয়া এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে মেয়র পদসহ সাধারণ বা সংরক্ষিত কোনো ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেনি।

চসিক নির্বাচনে ৩৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টি ওয়ার্ডের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৭টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জয় হয়েছেন। আর নারীদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের একটি ছাড়া বাকি ১২টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী পেয়েছেন।

তবে এই নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। এ কারণে ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচন নির্যাতনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট এবং জনগণ সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। কারণ বর্তমান সরকার নির্বাচনকে ভোট ডাকাতির কালচারে পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন : এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল শনিবার

এ বিষয়ে চসিক ভোটের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচন করলে বলা যেত যে, নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এজেন্ট বের করে দেওয়ার মূল কাজটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ নয়, আওয়ামী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন করেছে।

এদিকে ২৭ জানুয়ারি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনের ভোটের দিন পৃথক পৃথক স্থানে সহিংস সংঘাত হয়েছে। এই সংঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আর পৃথক সহিংস ঘটনায় তৃতীয় একজনের মৃত্যু ঘটলেও পুলিশ বলছে, এটা পারিবারিক কারণে। এটা ভোটের সাথে সম্পর্ক নেই।

সহিংসতার বিষয়ে কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেণ, কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া সবখানে ভালো নির্বাচন হয়েছে। আর তৃতীয় বিশ্বের অনেকে দেশেই নির্বাচনে সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটে। সে হিসাবে আমি বলব, বরং কমই হয়েছে৷ মাত্র দু-তিনটি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই নির্বাচনে যা হয়েছে, তা আপনারা পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন। একেবারে রক্তাক্ত, দুই জন মানুষ মারা গেছে। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হয়নি এবং তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বের করে দেয়া হয়েছে। আর এখন প্রত্যেকটি নির্বাচনেই প্রশাসনকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই বিএনপির প্রতিপক্ষ এখন আর আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পুলিশ প্রশাসন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন মাঠে ছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি তারা এই দিন ভোট দিতেও কেন্দ্রে যায়নি বলে প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদ থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এই দিন ৩২০ নং কাজীর দেউড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ নং ভোটকেন্দ্রে ভোটের চিত্র দেখা গেছে, এই কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মাত্র এক ভোট পেয়েছেন।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধিনে আর কোন ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও পরে দলটি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সব নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করছে। দলটি বলছে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের বেগবান করতেই বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে।

তবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের দিন ফলাফল নিজেদের না গিলেই দলটিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন করাটা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটা অংশ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচনে আমাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সম্পৃক্ত করতে পারি এবং জনগণের কাছে যেতে পারি। যেটা অন্য সময় যাওয়াটা কঠিন দুস্কর ব্যাপার। যেতেই দেয় না, মুভ করতে দেয় না। সভা-সমিতি ও মিটিং করতে দেয় না। যেটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ন্যুনতম অধিকার মানুষের জন্য। সেই ডেমোক্রেটিক স্পেসটা তারা নিয়ে নিয়েছে। সেই কারণে আমরা নির্বাচনে অংশ নেই।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শতকরা ২২.৫২% ভোট পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, নির্বাচনে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তিন লাখ ৭৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়েছেন। মেয়র পদে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এর আগে গত বুধবার নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটিতে মোট ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

সুত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এ/ ২৯ জানুয়ারি

Back to top button