সম্পাদকের পাতা

অনার কিলিং: একটি জাতিকে নাড়া দেওয়া চার নারীর হত্যাকান্ডের অন্তরালে

নজরুল মিন্টো

সাহার, জয়নাব, গীতি ও তাদের সৎ মা রোনা সালেহ

রাজধানী অটোয়ার বুক চিরে চলে গেছে রিডো ক্যানাল—একটি ঐতিহাসিক জলপথ, যেখানে সাঁতার কাটা নয়, বরং নীরবতা সাঁতরে বেড়ায়। এক বিষন্ন বিকেল। বাতাসে ঘোরে ম্যাপল পাতার ধুলোমাখা নৈঃশব্দ্য। সেই বিকেলে সূর্যের আলো ছিল ঝিমিয়ে পড়া, পাখির ডাক ছিল থেমে থেমে, আর বাতাসে ভেসে ছিল অজানা আশঙ্কার কুয়াশা।

দিনটি ছিল ২০০৯ সালের ৩০ জুন। কানাডার ইতিহাসে এই দিনটি রয়ে গেছে গভীর এক ক্ষতের মতো। বিকেলের ঠিক পর, রিডো ক্যানালের স্বচ্ছ জলে আবিষ্কৃত হয় একটি কালো নিশান গাড়ি। নিস্তব্ধ কাচের ফাঁকে ফাঁকে দেখা যাচ্ছিল চারটি মুখ- তিনটি কিশোরী ও এক প্রাপ্তবয়স্ক নারী। তাদের নাম ছিল সাহার, জয়নাব, গীতি এবং রোনা সালেহ নাফিজ। গল্পটি এখান থেকে শুরু।

কানাডা ডে-র আগের সকাল। ডিটেকটিভ কনস্টেবল জিওফ ডেম্পস্টার সেদিন বিকালের শিফটে কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু তার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল তার আগেই। মেজর ক্রাইম ইউনিটের একজন সহকর্মী তাকে জানালেন কিংস্টন মিলস লকের কাছে গাড়িভর্তি মৃতদেহের কথা। ডেম্পস্টার থানায় পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর, তিনজন মানুষ সামনে এসে দাঁড়ালেন নিখোঁজ প্রতিবেদন জমা দিতে: মোহাম্মদ শফিয়া—মেয়েদের বাবা, তুবা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া—তাদের মা, এবং হামেদ শফিয়া—তাদের ১৮ বছর বয়সী ভাই।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা ডেম্পস্টার দিনভর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তাদের প্রাথমিক বয়ানে জানা গেলো—তারা একটি ধনী মুসলিম পরিবার, কানাডার নতুন অভিবাসী, নায়াগ্রা ফলস সফরে যাওয়া দশজন সদস্য দুইটি গাড়িতে ভাগ হয়ে গিয়েছিল—একটি নিশান সেন্ট্রা ও একটি সিলভার রঙের লেক্সাস SUV।

শফিয়া, তুবা ও হামেদ সবাই বললেন যে তারা মন্ট্রিয়লে ফেরার পথে অন্টারিওর কিংস্টনে একটি মোটেলে থামেন। পরের দিন সকালে, সেই নিশান এবং পরিবারের অর্ধেক সদস্যই নিখোঁজ। “ব্যস, এটাই,” বললেন শফিয়া। কিন্তু ডেম্পস্টার দ্রুতই বুঝলেন—গল্প এখানেই শেষ নয়…
কিংস্টন মিলস লক কানাডার একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে কিংস্টনের উত্তরে রিডো খালের চারটি লক একসাথে মিলেছে। পর্যটকরা এখানে আসেন খালপথে চলাচলকারী নৌকাগুলো দেখতে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে, যখন বাতাসে গ্রীষ্মের সুবাস মেশে জলরাশির কণায়।

২০০৯ সালের জুন মাসের শেষ দিকে, ভোরবেলা, একদল পর্যটক এখানে ছবি তুলছিলেন, তখন তারা পানির নিচে একটি গাড়ি দেখতে পান। গাড়িটির ছাদ পানির বাইরে বেরিয়ে ছিল। পুলিশ এসে গাড়িটি টেনে তোলে। গাড়িটি ছিল একটি কালো নিশান সেন্ট্রা—আর তাতেই মিলে চারটি মৃতদেহ।

খাল থেকে টেনে তোলা হচ্ছে গাড়ি

ডিটেকটিভ ডেম্পস্টার এবং তার দল বুঝতে পারলেন, তারা একটি অস্বাভাবিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। শফিয়া পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বিবৃতি এবং গাড়ির পানিতে পড়ার পরিস্থিতি, কিছুই একে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মানতে মন সায় দিচ্ছিলো না। সবকিছু ছিল অনেক বেশি সাজানো, তবে অসংগতিপূর্ণ।

ডেম্পস্টার জানতেন, এই মামলার তদন্ত সহজ হবে না, কারণ এটি শুধু চারটি মৃত্যু নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে সংস্কৃতি, ধর্ম, সম্মান ও নারীর স্বাধীনতা।

পুলিশ গাড়িটিকে টেনে তোলার পরে যা আবিষ্কার করল তা ছিল চরম হৃদয়বিদারক। প্রথমে অনেকেই ভাবেন এটি একটি বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা—হয়তো রাতের অন্ধকারে গাড়িটি ভুলবশত পানিতে পড়ে গেছে। কিন্তু গাড়ির জানালাগুলো বন্ধ ছিল, দরজাগুলো তালাবদ্ধ, এবং গাড়ির গিয়ার নিরপেক্ষ অবস্থায় ছিল না, বরং ড্রাইভ মোডে ছিল। আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার—গাড়িটির হ্যাজার্ড লাইট বন্ধ ছিল, কিন্তু তার চাবি ইগনিশনে ছিল না।

গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ শাফিয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী (সন্তানদের মা) তুবা

এই সকল তথ্য, প্রমাণ এবং পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুলিশ এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা কানাডা জুড়ে আলোড়ন তুলল।

পরিবারটির কর্তা, মোহাম্মদ শফিয়া, তার স্ত্রী তুবা ইয়াহিয়া এবং তাদের ছেলে হামিদ—এই তিনজনই পর্দার আড়ালে থাকা নাট্যকার। এক পর্যায়ে, পুলিশ তাদের গোপনে রেকর্ড করা কথোপকথনের মাধ্যমে বুঝে যায়, এই চারটি মৃত্যু ছিল “সম্মান রক্ষার্থে” সংঘটিত একটি গণহত্যা। ‘অনার কিলিং’।

পুলিশের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে মোহাম্মদ শফিয়া বলছিলেন, “ওরা আমাদের সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল”। শফিয়ার মতে, তার মেয়েরা পশ্চিমা জীবনধারায় এতটাই মিশে গিয়েছিল যে তা তাদের ধর্ম ও পারিবারিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হয়ে উঠেছিল। শফিয়া এবং তার স্ত্রী তুবা বারবার বলেছিলেন, এই মেয়েরা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এবং তারা পরিবারের মর্যাদা ধ্বংস করছিল। আর সেই মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়েই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় তাদের।

হামিদ শাফিয়া

তদন্ত যতই গভীরে যেতে থাকে, ততই ভয়ঙ্কর সব তথ্য বেরিয়ে আসে। গাড়ি উদ্ধারের একদিন পরেই, শফিয়া পরিবারের সবাইকে পুলিশ ডেকে পাঠায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। শফিয়া নিজেকে ভেঙে পড়া এক শোকাহত পিতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। তার ভাষায়, “আমার জীবন শেষ। আমি তো আমার পরিবারের অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছি।”

কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি তার কৃত্রিম কান্না, তার স্ত্রীর শুষ্ক চোখ, কিংবা হামিদের অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা মেজাজ। এরপরেই পুলিশ একটি কৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়—তাদের গাড়িতে গোপনে অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং যন্ত্র বসানো হয়। এই রেকর্ডিং-এ যা উঠে আসে, তা ছিল চরম লোমহর্ষক।

এইসব রেকর্ডিং এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে তিনজনকে—মোহাম্মদ শফিয়া, তুবা ইয়াহিয়া, ও হামিদ শফিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ: পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার ষড়যন্ত্র।

শাফিয়া পরিবার এসেছিল আফগানিস্তান থেকে। তালেবানি শাসনের নির্যাতন, অন্ধ ধর্মীয় অনুশাসন, এবং রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পাড়ি জমিয়েছিল উত্তর আমেরিকার এক মুক্ত সমাজে। কিন্তু তারা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল সেই রক্ষণশীলতার বিষবীজ, যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা মানেই পরিবারে লজ্জার কারণ। এই রক্ষণশীল সংস্কৃতির ছায়া পড়েছিল তাদের প্রতিটি কথায়, সিদ্ধান্তে, ও আচরণে।

প্রথম স্ত্রী রোনা ও মোহাম্মদ শাফিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি

তিন কন্যা সাহার, জয়নাব ও গীতি। তারা স্কুলে যেত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত, সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করত। তারা মাথায় ওড়না দেওয়া পছন্দ করতো না। সাহর ভালোবাসত নাচতে, জয়নাব পশ্চিমা পোশাক পরতো আর গীতি চুপচাপ বই পড়তে ভালোবাসত। কিন্তু তাদের বাবা, মা এবং ভাইয়ের কাছে এসব ছিল ‘অপমান’, ‘লজ্জা’, এবং শেষ পর্যন্ত ‘মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ’।

কিন্তু এই অপরাধের কোনো মামলার প্রয়োজন ছিল না। কারণ আদালত ছিল বাড়ির ভেতরেই, যেখানে বিচারক ছিল বাবা, সাক্ষী ছিল মা, আর জল্লাদ ছিল আপন ভাই।

ধীরে ধীরে, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত—চোখে চোখ রেখে, কথার ফাঁকে, চলার পথে, খাবারের টেবিলেবোনা হচ্ছিল এক ভয়াবহ নকশা। অবশেষে সে নকশা অনুযায়ী দেয়া হয় বিচারের রায়।

মোহাম্মদ শফিয়ার প্রথম স্ত্রী রোনা সালেহ নাফিজ, নিঃসন্তান, কিন্তু হৃদয়ে ছিলেন মা। তিনি ছিলেন এই পরিবারে সবচেয়ে নিঃশব্দ অথচ সবচেয়ে সজীব আত্মা। মেয়েদের গায়ে হাত পড়লে তিনি কেঁপে উঠতেন। রাতের পর রাত নির্জনে কেঁদেছেন। ডায়েরিতে লিখেছেন- “এই ঘরটা কবরখানা। আমি মরিনি, কিন্তু কবরেই থাকি।”

বাবা মোহাম্মদ শাফিয়া, মা তুবা, তিন কন্যা সাহার, জয়নব ও গীতি

যখন মেয়েরা একটু একটু করে সাহসী হতে শিখছিল, ঠিক তখনই চারপাশের দেওয়াল তাদের চেপে আসছিল। স্কুলের টিচার, প্রতিবেশী, এমনকি স্থানীয় একটি সহিংসতা বিরোধী সংগঠন সবাই অনুভব করেছিল, এ পরিবারে কিছু একটা ভুল হচ্ছে।

বিচার শুরু হলো। এটি ছিল কানাডার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত মামলাগুলোর একটি। আদালতের বাতাস ছিল ভারি, যেন প্রতিটি সাক্ষ্য এক একটি কান্নার অনুবাদ। সাক্ষ্য দিলেন সাহরের শিক্ষক, রোনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা।

বিচার চলাকালীন আদালতে প্রদর্শিত হয় ১৬ সপ্তাহের প্রমাণ—যার মধ্যে ছিল: গাড়ির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, মেয়েদের স্কুল ও বন্ধুদের সাক্ষ্য, পরিবারে নিপীড়নের ইতিহাস, এবং সেই ভয়াবহ রেকর্ডিং, যেখানে তাদের নিজেদের মুখেই হত্যার কথা উঠে আসে।

আসামী পক্ষ দাবি করে যে এই মৃত্যুগুলো ছিল দুর্ঘটনা। তাদের মতে, মেয়েরা নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে খালে পড়ে যায়। কিন্তু প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করে যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা ছিল।

রিডো ক্যানাল: কানাডার একটি ঐতিহাসিক জলপথ

প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়:
গাড়ির অবস্থা- গাড়ির গিয়ার ড্রাইভ মোডে ছিল, যা ইঙ্গিত করে যে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে চালানো হয়েছিল।

মেয়েদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন- ময়নাতদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

গোপন রেকর্ডিং- যেখানে বাবা, মা এবং ভাই হত্যার পরিকল্পনা এবং তা সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর, আদালত মোহাম্মদ শফিয়া, তুবা ইয়াহিয়া এবং হামিদ শফিয়াকে চারটি হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

বিচারক সেদিন মন্তব্য করেন—“এটি অনার কিলিং নয়, এটি অনারলেস কিলিং। আপনারা যেটাকে সম্মান বলছেন, সেটি আসলে ঘৃণা, অন্ধতা এবং পশুত্ব।” এই রায়ের মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছিল—কানাডা এমন সহিংসতাকে বরদাশত করে না। ‘অনার কিলিং’ শব্দটি তখন প্রথমবারের মতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল কানাডার জনগণের হৃদয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাডিয় মিডিয়া বিরাট ভূমিকা রাখে। সিবিসি, গ্লোব অ্যান্ড মেইল, সিটি নিউজ সহ বড় সব সংবাদমাধ্যম ঘটনার প্রতিটি দিক গভীরভাবে অনুসন্ধান করে। শুধু সংবাদ নয়, হয়েছে তথ্যচিত্র, হয়েছে আলোচনা সভা, হয়েছে নাটক ও সিনেমা। এই ট্র্যাজেডি এক ‘আলোচিত অনার কিলিং’ থেকে হয়ে উঠেছিল এক সামাজিক আন্দোলনের বীজ।

কানাডার মতো প্রগতিশীল, বহুসাংস্কৃতিক দেশের বুকেও কীভাবে এমন বর্বরতা সংঘটিত হতে পারে—এই প্রশ্নে কেঁপে উঠেছিল জনমানস। গণমাধ্যম, আদালত, পারিবারিক সহিংসতা বিরোধী সংগঠন, স্কুল, প্রতিবেশী, এবং সরকার—সবাই একসঙ্গে রুদ্ধশ্বাসে খুঁজতে শুরু করল এই চারটি মৃত্যুর প্রকৃত অর্থ। আর এই খোঁজ এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় সবাইকে—যেখানে স্বাধীনতার আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকে সহিংসতার এক অদৃশ্য ছায়া।

কানাডা বুঝেছিল—‘অনার কিলিং’ শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার গল্প নয়, এটি ঢুকে পড়েছে এ দেশে বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারের ঘরের ভিতর। সারাদেশে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোড়ন ওঠে।

এই ঘটনার পর কানাডার বিভিন্ন স্কুলে “সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা” বিষয়ে ওয়ার্কশপ চালু হয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এই ধরণের পরিবারে মানসিক সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে শুরু হয় গোপন হেল্পলাইন।

মন্দির, মসজিদ ও গির্জায় শুরু হয় বিশেষ আলোচনা; যেখানে বলা হয়, ধর্ম কোনো সহিংসতার দায় নিতে পারে না। সংস্কৃতি কখনও ন্যায়বিচারের চেয়ে বড় হতে পারে না। ধর্মের নামে, পরিবারের নামে, আমরা কাউকে হত্যা করতে পারি না। প্রকৃত ইসলাম বা সভ্য সমাজ কোনও অবস্থাতেই এমন নৃশংসতা সমর্থন করে না।

রিডো ক্যানালের জল আজও শান্ত। কিন্তু সেই শান্ত জলের ভেতরে ভেসে আছে চারটি নাম- সাহার, জয়নব, গীতি ও রোনা। তাদের নাম যেন ধ্রুবতারা হয়ে গেছে আমাদের বিবেকের আকাশে।

এই গল্প রক্তে লেখা, কান্নায় ভেজা, অভিমান ও মৃত্যুর গল্প। আর সে কারণেই এই গল্পের শেষ হয় না।

সূত্র: দেশে বিদেশে, গ্লোব এন্ড মেইল, সিবিসি, ম্যাকলিনস্‌ ম্যাগাজিন


Back to top button
🌐 Read in Your Language