গাজীপুর

‘আলু খাওনের কথা ভুইলা যাও, কচুপাতা দিয়ে তরকারি রান্না করো’

গাজীপুর, ১৩ অক্টোবর- ‘আলুর দাম অনেক, এই সময় আলু খাওনের কথা ভুইলা যাও, কচুর পাতা দিয়া তরকারি রান্না করো। আর অন্যান্য কাঁচা তরকারির কাছে তো ভিরান যায় না।

গরিব মানুষের খাওন ছিল আলু, সেটাও এখন গরিবদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।’

পোশাক শ্রমিক কল্পনা স্বামী আব্দুর রশিদসহ তিন সন্তানকে নিয়ে টঙ্গী হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি ছোট বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। তার দুই মেয়ে লেখাপড়া করছে। একজন কলেজে, একজন স্কুলে। স্বামী-স্ত্রী ও এক ছেলে তিনজনই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

পোশাকশ্রমিক কল্পনার সাথে আলুর দাম নিয়ে কথা হলে, তিনি এক বাক্যেই বলেন, আজকে আমার স্বামীকে আমি আলু কিনতে বলেছিলাম, এর উত্তরে সে আমাকে বলেছে আলুর দাম অনেক। আলু খাওনের কথা ভুইলা যাও। বাড়ি থেকে কচুপাতা আনছি, সেটা দিয়ে তরকারি রান্না করো। আর অন্যান্য তরকারির কাছে তো ভিরান যায় না। সেগুলোর কথা মুখেও আইনো না।

কল্পনা আরো বলেন, আসলেই আলুর দাম এত হবে কখনও কল্পনাও করিনি। আমগো গরিবদের খাওন হচ্ছে আলু। আধা কেজি আলু ভর্তা করলে আমাগো পাঁচজনের সংসারে এক বেলা চলে যেত। এখন আলু আমাগো গরিবদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আর অন্যান্য তরকারির কাছে তো যাওন যায় না।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটামুটি সব দোকানেই আলু সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। সেসব দোকানে গিয়ে আলুর কেজি কত জানতে চাইলে, উচ্চ স্বরে দোকানিরা বলে ওঠে ৫০ টাকা কেজি।

রামপুরা ওয়াপদা রোডের একটি দোকানে আলু পিঁয়াজ বিক্রি করে থাকেন জয়নাল নামে এক যুবক। তার সাথে আলুর দাম নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, আলুর দাম কেন বেড়েছে, আমরা নিজেরাও জানিনা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়ত থেকে আমরা আলু কিনে আনি। আলু কিন্তু সব আড়তে পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ওসি পরিচয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিতো বিকাশে

এমন তো না যে ৫ আড়ত ঘুরে এক আড়তে গিয়ে আলু পেয়েছি। সব আড়তেই আলু পাওয়া যাচ্ছে। সংকট নেই। তাহলে আলুর দাম কেন বাড়লো দোকানিরাও উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।

খিলগাঁও রেলগেট বাজার গিয়ে দেখা যায়, দোকানে দোকানে আলুর পসরা সাজিয়ে দোকানিরা বিক্রির জন্য বসে আছেন। তাদের কাছে আলু দাম জানতে চাওয়া হলে, তারাও বলেন ৫০ টাকা কেজি। জানতে চাইলাম আলু বিক্রি কেমন হচ্ছে, এক কথায় উত্তর, আগের মতনই।

খিলগাঁও রেলগেট বাজারের একটি দোকান থেকে আলু ক্রয় করছিলেন খিলগাঁও মডেল স্কুলের পশ্চিম পাশে সি ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ রেজা ভূঁইয়া, তার বয়স হবে আনুমানিক ৫০। আলুর দাম নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নব্বই দশকে এই রেলগেট বাজারে আমি দুই থেকে তিন টাকা করে আলুর কেজি কিনেছি।

কিছুদিন আগেও আলুর কেজি ছিল ২৫ টাকা। হঠাৎ সেটা বেড়ে গেল ৫০ টাকা কেজি। তিনি একটু আক্ষেপ করে বলেন, এখন দেখছি আলুসহ সব তরিতরকারি খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। যেভাবে সব জিনিসের দাম বাড়ছে সামনে কি যে হবে, আল্লাহই জানে!

সূত্র : বাংলানিউজ
এম এন / ১৩ অক্টোবর

Back to top button