সিলেট

৪৯ বছর পর ‘বাঁশের ব্রিজ’, চলে যানবাহনও

শিপার আহমেদ

সিলেট, ২৪ জানুয়ারি – নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পাকা সেতুর আদলে বাঁশের সাকো নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক এলাকার লোকজন। করতির খালের ওপর বাঁশের ১৫০ ফুট সাঁকো তৈরির করে ফুলমলিক ও চান্দ্রগ্রাম গ্রাম দুটির যোগাযোগের নতুন যুগের সূচনা করল গ্রামবাসী। পাশাপাশি দূর হলো ৪৯ বছরের যোগাযোগ ভোগান্তির। করতির খালে ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করতে দায়িত্বশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক-চন্দ্রগ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছিল করতির খাল। স্বাধীনতার পর থেকে এই খাল পারাপারের একমাত্র মধ্যম ছিল নৌকা। কিন্তু এবার এলাকাবাসীর উদ্যোগে সেই ভোগান্তির শেষ সাময়িক হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকা থেকে চাঁদা তুলে ফুলমলিক গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে খালের ওপর গ্রামীবাসী দেড় শ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাকো নির্মাণ করে অসাধ্যকে সাধন করেছেন।

আরও পড়ুন : পিপল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান-এমডি গ্রেপ্তার

নির্মিত বাঁশের এ সাকো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করবে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন। গ্রামবাসী বাঁশ দিয়ে তৈরি সাকোর নাম দিয়েছেন ‘বাঁশের ব্রিজ’। তবে অনেকে বলছেন এই বাসের সাঁকো আর কত বছর টিকবে। কয়েক মাস পর ভেঙে যাবে। দ্রুত এখানে সেতু নির্মাণ করে এলাকার দুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানান তারা। গত শনিবার বিকেলে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম পল্লব।

সাঁকো নির্মাণের স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া কামিল আহমদ জানান, সাঁকো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। দুই গ্রাম থেকে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় কাজ শুরু হয়। সাঁকোটি নির্মাণে প্রায় ২ মাসের মতো লেগেছে। সাঁকোটি অনেক মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে। সাঁকো দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকে করতির খাল পারাপারের জন্য ফুলমলিক-চন্দ্রগ্রামের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। এখন থেকে জরুরি প্রয়োজনে নিজ গ্রাম থেকে অটোরিকশা, রিকশা কিংবা মোটরসাইকেল নিয়েও যেতে পারবেন। সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের পর।

আলীনগর ইউপির চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত মানুষ এই সাঁকো দেখতে আসছে। এমন একটি মহৎ উদ্যোগ সত্যি আমাকে অভিভূত করেছে। উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অনেক অসম্ভব কাজকে খুব সহজে সম্ভব করা যায়। সেটি করে দেখালেন ফুলমলিক গ্রামবাসী।

সূত্র: কালেরকন্ঠ
এন এ/ ২৪ জানুয়ারি

Back to top button