অপরাধ

ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার সাবেক হিসাবরক্ষকের ৯১টি গাড়ি ও জমি জব্দ

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুন্ডের বাসিন্দা ইকবাল বিসিআইসির আওতাধীন ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সার কারখানার হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দীর্ঘ চাকরি জীবনে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত তদন্তে এখন পর্যন্ত ইকবালের নামে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।

অবৈধ সম্পদের পরিমাণ
ইকবাল দুর্নীতির মাধ্যমে ৯১টি গাড়ি সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ২১টি মিনিবাস রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়। ‘আশিক ট্রেডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠান এসব গাড়ির ভাড়া পরিচালনা করত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি আদালত ইকবালের সম্পদ জব্দ করে রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেয়। সিআইডির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমাণ জমি
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। তাদের মোট চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে রমনার মেহজাবীন স্কয়ারের একটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৩,৮৩৫ বর্গফুট। এছাড়া দক্ষিণখানের আইকন ভিলেজে ১,৫৯৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দলিল মূল্য ২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা। রমনায় আরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর আয়তন যথাক্রমে ২,১০৬ এবং ১,৩৬৮ বর্গফুট।

এছাড়াও, ইকবাল ও তার স্ত্রীর নামে ২৯৯ দশমিক ১ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে, যার দলিল মূল্য ৭ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরে ৬১ শতাংশ জমি রয়েছে। পাশাপাশি, মুন্সীগঞ্জ ও ময়মনসিংহে একাধিক দাগে জমির মালিকানা রয়েছে তাদের।

দুর্নীতি ও জালিয়াতির চক্র
সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ইকবাল। এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি তার স্ত্রীর নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে ভুয়া বিল ও রসিদ দাখিল করেন। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে ইকবাল শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্প থেকে ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সিআইডির দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ মানিলন্ডারিং আইনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৬টি মামলা করেছে। ২০২২ সালে র‍্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।

আইএ/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

 


Back to top button
🌐 Read in Your Language