পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া, কড়া সিদ্ধান্ত

কলকাতা, ২২ জানুয়ারি- রাজীবের ইস্তফার দিনেই দল থেকে বহিষ্কার করা হল বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। শুক্রবার তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে বৈশালীকে নিয়ে এমনই কড়া সিদ্ধান্ত নিল। এর আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লার ইস্তফার দিনেও বৈশালী দলবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। এদিনও রাজীবের পক্ষ সমর্থন করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন।

বৈশালীর বিবৃতির পরই কড়া সিদ্ধান্ত তৃণমূলের
বৈশালী ডালমিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বেসুরো বেজে চলেছেন। তিনি একের পর এক দলবিরোধী মন্তব্য করে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলছিলেন। এর আগে বহিরাগত তত্ত্ব নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূলের। ফলে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি অনেকদিন ধরেই তা নজরে রাখছিল। এদিন বৈশালীর বিবৃতির পরই দল কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন।

উইপোকাদের নির্মূলের বার্তা দিয়েছিলেন বৈশালী
বৈশালী ডালমিয়া এর আগে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। লক্ষ্মীরতন শুক্লার ইস্তফার দিন বলেছিলেন, দলের আসল মীরজাফর বেইমান কারা, তারা উইপোকার মতো কুরে করে খাচ্ছে। তাঁদের কারণেই দল থেকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের। তিনি দল থেকে উইপোকাদের নির্মূলের বার্তা দিয়েছিলেন।

কাজ করতে পারছিলেন গুটিকয়েক নেতার জন্য
এদিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দেওয়ার পর বৈশালী ডালমিয়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কড়া বিবৃতি দেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফায় দলের পাশাপাশি মানুষেরও ক্ষতি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি কাজ করতে পারছিলেন গুটিকয়েক নেতার জন্য। একটা শ্রেণি কাজ করতে দিচ্ছেন না। উইপোকার ঢিপির উপরে যিনি বসে আছেন, তিনি নাড়া দিতেই একশ্রেণি সোচ্চার হচ্ছেন। যার ফলে কাজের মানুষ কাজ করতে পারছেন না। মন কষ্টে মন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন।

আরও পড়ুন : শুভেন্দুর সঙ্গে একই ‘বার্থডে পার্টিতে’ রুদ্রনীল! বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিকে আরও এক কদম এগোলেন রুদ্রনীল

বৈশালী ডালমিয়া দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন, তাই বহিষ্কৃত
তিনি বলেন আমাদের মতো বিধায়ককেই নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। দলের একাংশ আমাদের অপমান করছেন। আমাদের না ডেকেই এলাকায় মিটিং-মিছিল করছেন। নাম না করে পরোক্ষে তিনি ক্ষোভ জানান জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তাতেই দল মনে করে বৈশালী ডালমিয়া দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করছেন। তাই কঠোর ব্যবস্থা নিতে বৈঠকে বসে কমিটি।

নাম না করেই অরূপ রায়কে কাঠগড়ায় তোলেন বৈশালী
বৈশালী ডালমিয়া এদিন চড়া সুরেই নাম না করে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তিনি নিজেকে হাওড়ার মুখ্যমন্ত্রী ভাবেন বলেও মন্তব্যে করেন বৈশালী। তাঁর কথায়, একজনকে রাখতে গিয়ে সবাই চলে যাচ্ছেন। সব কাজে নাক গলিয়ে সমস্যা তৈরি করেন যিনি, তাঁকে রাখতে গিয়েই দলের বিপদ বাড়ছে। হাওড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কীভাবে কমবে তা নিয়ে এই টিপসের পরই বৈশালীকে নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র: ওয়ানইন্ডিয়া

আর/০৮:১৪/২২ জানুয়ারি

Back to top button