অপরাধ

সাবেক কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ

টরন্টো, ২৪ ডিসেম্বর – বাংলাদেশের সাবেক কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক চক্রান্তের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের শিংরাউলি গ্রামের এই সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সরকারের নীতি অনুসরণ করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে এবং পুলিশ বাহিনী ও কারাগার পরিচালনায় অনিয়ম করেছে।

বিভিন্ন সূত্রের মতে, সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন তার প্রশাসনিক পদমর্যাদার সুযোগ নিয়ে পুলিশে নিয়োগ, কারাগারে কয়েদিদের খাদ্য সরবরাহের অনিয়ম এবং কাশিমপুর কারাগার নির্মাণে দুর্নীতি করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যে তিনি সারা দেশের কারাগার থেকে শতশত কোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন। এছাড়া, তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে, যার মধ্যে তার চাচাতো ভাই ইশতিয়াক আহমেদ বাবেল এবং অন্য পরিবারের সদস্যরা বিদেশে বাড়ি-গাড়ি ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এর পাশাপাশি, অভিযোগ রয়েছে যে, আইজি প্রিজন সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি ও জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তাদের ফাঁসির আদেশে জড়িত ছিলেন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বর্তমানে তার চাচাতো ভাই বাবেলকে বিএনপির শীর্ষ পদে বসানোর জন্য প্রভাবশালী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। এই কৌশলটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেহেতু এতে করে ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, কিছু নামী ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে, যারা এসব রাজনৈতিক তদবির এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এসব ঘটনা দেশের জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

২০২১ সালে দুদকের অভিযানে কি ছিলো ফিরে দেখা।

ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কারা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২২ আগস্ট ২০২১) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

সিদ্ধান্তের পরপরই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎপূর্বক জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযােগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে অধিনস্ত ও আশির্বাদপুষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যােগসাজশে নিয়ােগ, টেন্ডার ও মাদক বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযােগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক।

ওই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেছিলেন, সংস্থার প্রধান হিসেবে আমি দায় এড়াতে পারি না। এটা আমার প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলা যেতে পারে। তাদের এই দুর্নীতি আমি আইডেন্টিফাই করতে পারিনি। বলতেই হবে এটা আমার ব্যর্থতা। বাকিটুকু প্রমাণসাপেক্ষ। তদন্ত কী বেরিয়ে আসে, সেটা দুদক বলবে।


Back to top button
🌐 Read in Your Language