টরন্টোয় শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক সজীব!

সজীব রঞ্জন দাশ। টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায় তিনি ডজন খানেক বিলাস বহুল বাড়ি ও কনডোমনিয়ামের মালিক। নামে-বেনামে তিনি বহু টাকা বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন সেক্টরে। জানা যায়, গত কয়েক বছরে তিনি বাংলাদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন। ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে এসেছেন তার নিরাপদ আবাসস্থল টরন্টোয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে টরন্টোর (স্কারবোরো) 138 Maybourne Ave এর বাড়িটি তার। ২০২০ সালে তিনি বাড়িটি ক্রয় করেন। এর বর্তমান মূল্য ২ মিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি ৫২ পিট এভিনিউর বাড়িটি তার স্ত্রী শেলী দাসের নামে ৭ লাখ ডলারে ক্রয় করেন। এ দু’টি বাড়ি ছাড়াও আরও ৬টি বাড়ি ও ৫টি কনডোমনিয়াম তিনি ক্রয় করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কে এই সজীব রঞ্জন দাশ? তার অনেক পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ সভাপতি ও এফবিসিআই পরিচালক। তার দেশের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়। তার ক্ষমতার উৎস হলো তিনি শেখ সেলিমের পুত্র শেখ ফজলে ফাহিমের ব্যবসায়িক পার্টনার। তিনি চট্টগ্রামের সিতাকুণ্ডে অবস্থিত Eurogaz LPG নামে ইন্ড্রাষ্ট্রির একজন অংশীদার। জানা গেছে, তার এফবিসিআই পরিচালক হওয়ার পেছনের কাহিনী। তিনি প্রচুর অর্থ ব্যায় করে গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সদস্যপদ লাভ করেন। এর আগে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সদস্যপদ লাভ করেন।
২০১৭ সালে সুনামগঞ্জে হাওরের ফসলহানির পর যে ঠিকাদারের নামটি বেশি আলোচিত হয়েছিল সে সজীব রঞ্জন দাশ। সাতটি হাওরে নয়টি বাঁধের কাজ পেয়েছিলেন এ ঠিকাদার। তার গাফিলতিতে জোয়ারিয়া বেড়িবাঁধটি ভেঙে ৪৭৪ হেক্টর বোরো জমির ফসল তলিয়ে যায়। গরীব কৃষকদের সর্বনাশ হলেও তার পকেটে এসেছে কোটি কোটি টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো কাজ না করেই সজীব বরাদ্দকৃত সব টাকা হজম করে ফেলেছেন।
সজীব রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট, প্রতারণা, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ তার মালিকানাধীন সুনামগঞ্জ শহরের সিনথিয়া-সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস বিল বাবদ দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা বকেয়া রেখে তিনি পালিয়ে এসেছেন। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী শেলী দাস, দুই পুত্র ও দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে কানাডায় অবস্থান করছেন।









