৫০০ কোটি টাকা পাচার করে টরন্টোতে চট্টগ্রামের ঈসার বাদশাহি জীবন!

বাদশা মিয়া সওদাগর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গড়েছিলেন ‘বাদশা গ্রুপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর দুই পুত্র ঈসা বাদশা ও মুসা বাদশা। তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর গ্রুপের সুনাম আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আটটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সব টাকা পাচার করে দিয়েছেন কানাডায়।
জানা যায়, ২০১৮ সালের শেষ দিকে সপরিবারে কানাডা চলে আসেন দুই ভাই। করোনার সময়ে মুসা বাদশা বাংলাদেশে গিয়ে মারা যান। ঈসার নিজের নামে টরন্টোর লেকশোর এলাকায় দুটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম রয়েছে। যার বর্তমান বাজার দর তিন মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি। এছাড়া নামে-বেনামে কানাডায় তার অনেক সম্পত্তি ও ব্যবসা রয়েছে।
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার বাদশা মিয়া সওদাগর কঠোর পরিশ্রম করে তালা মার্কা সাবান ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাদশা গ্রুপের যাত্রা শুরু করেন। পরে তার ছেলেরা পুরনো জাহাজ এনে ভাঙার বা স্ক্র্যাপের ব্যবসা শুরু করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ট্রেডিং অ্যান্ড কমিশন এজেন্ট মুসা ঈসা ব্রাদার্স, স্ক্র্যাপ ট্রেড ও শিপ ব্রেকার্স প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঝুমা এন্টারপ্রাইজ, ট্রেডিং অ্যান্ড কমিশন এজেন্ট এমএম এন্টারপ্রাইজ, সাবান ও তেল কোম্পানি এবং বাদশা ওয়েল অ্যান্ড সোপ ফ্যাক্টরি। এছাড়া খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক ভবন বাদশা মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েন তারা। সবকটি প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান কার্যালয় বাদশা মার্কেট ১৭৩ খাতুনগঞ্জ, চট্টগ্রাম।
ঈসা বাদশা মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণখেলাপির হওয়ায় পরিচালক পদ থেকে বাদ পড়েন তিনি। ব্যাংকটিতে ঈসা ও তার পরিবারের নামে ৫ শতাংশ শেয়ার আছে। ঈসার আবাসিক ঠিকানা চট্টগ্রামের খুলশী থানার ৫ নম্বর সড়কের ১৩ খুলশী হিলে।
খাতুনগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী জানান, একসময় বাদশা গ্রুপ ভালোই ব্যবসা করেছিল। বাদশা মিয়া সওদাগরের নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি ছেলেরা ধরে রাখতে পারেনি। তারা বাড়তি লাভের আশায় জাহাজ ভাঙা ও অন্যান্য ব্যবসা শুরু করে এবং অনভিজ্ঞতার কারণে ব্যর্থ হয়। অবশেষে তারা ব্যাংক লোন নিয়ে অবৈধপথে ওইসব অর্থ কানাডায় পাচার করেছে।
বাদশা গ্রুপের কাছে ওয়ান ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকসহ মোট আটটি ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আটকে আছে। টাকা আদায়ে ব্যাংকগুলো তাদের পেছনে ছুটে ছুটে একরকম হয়রান। ইতিমধ্যে অর্থঋণ আদালতে ঈশার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের খাতায় ঈশা বাদশা ওরফে মহসিন এখন ‘ফেরারি’।









