হাজার কোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন হানিফ!

মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শেখ হাসিনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্র ধরে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে তিনি এমপি হন। এ সময়কালে তিনি দূর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকা উপার্জন করেন। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা রাতারাতি জিরো থেকে হিরো হয়েছেন, তাদের তালিকায় হানিফ ছিলেন সবার ওপরে। হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে পলায়ন করেন এবং বর্তমানে তিনি দিল্লিতে আত্মগোপন করে আছেন।
হানিফের স্ত্রী ফৌজিয়া আলম তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বৃহত্তর টরন্টো’র (নর্থ ইয়র্ক) ‘বে ভিউ ভিলেজ’ এলাকায় বসবাস করছেন। এখানে তাদের সন্তানেরা প্রাইভেট স্কুলে পড়ার জন্যে একেকজনের মাসিক বেতন দিতে হতো ১ হাজার ডলারেরও বেশি। বর্তমানে তিনজনই (ফাহিম আফসার আলম, ফারহান সাদিক আলম ও তানিশা আলম) বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেকের ধারণা হানিফ কানাডার সিটিজেনশিপ নিয়েছেন, কেউ বলছেন তিনি কেবলই পিআর কার্ড হোল্ডার।
সূত্র জানায়, টরন্টোয় হানিফের বেশ কয়েকটি বাড়ি আছে। হানিফ তার ভাই ও বোনের নামে এখানে প্রচুর সম্পদ করেছেন। তার একটি গ্যাস স্টেশনও রয়েছে। তিনি যেকোনো সময় ‘চট’ করে কানাডায় ঢুকে যেতে পারেন!
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগেও হানিফের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা বা সম্পদ ছিল না। কিন্তু এখন কুষ্টিয়া ছাড়াও রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অন্তত ৪টি জেলায় তাঁর শত শত কোটি টাকার সম্পদ ও ব্যবসা রয়েছে। গত বছর ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হানিফের হলফনামায় ছয়টি কোম্পানির মালিকানার তথ্য দেওয়া হয়। সেগুলো হলো– কোয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল, লুনার এভিয়েশন, কোয়েস্ট অ্যাকুয়াকালচার, সান মেরিন, ব্লু লাইন ইয়ার সার্ভিসেস, এআরএমএস বাংলাদেশ লিমিটেড।
সূত্র জানায়, হলফনামাটি ছিল অসত্য। দেশে বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির সঙ্গে বেনামে ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন হানিফ। এর মধ্যে স্পেক্ট্রা লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখযোগ্য। কুষ্টিয়ায় হানিফের ভাই আতার মার্কেট, দোকান ও শপিংমলে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে জেলা পরিষদ, তমিজ উদ্দিন মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, পরিমন টাওয়ার, সমবায় মার্কেটে ৫০টির মতো দোকান আছে। রাজধানীর গুলশানের ‘সারনিটি শোরস’ (৩ নম্বর রোডে ৩২/১ নম্বর) বাড়িটি মাহবুবউল-আলম হানিফের।
সূত্র আরও জানায়, ঢাকা ও কুষ্টিয়ায় তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার, ব্যাংকে ডিপোজিট আছে। এছাড়া স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের নামে কুষ্টিয়ায় ‘লালন কলা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইসেন্সও নিয়েছিলেন হানিফ। সর্বশেষ ভয়ঙ্কর তথ্যটি হচ্ছে- টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াবা চোরাচালানি আব্দুর রহমান বদির সঙ্গে হানিফের মাদকের ব্যবসা ছিল ।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে উপার্জিত হাজার কোটি টাকা হানিফ হুণ্ডির মাধ্যমে কানাডায় পাচার করেছেন।









