ক্রিকেট

ম্যাচের কোনো অবস্থায়ই নিজের উপর বিশ্বাস হারাননি তেওয়াতিয়া

আবুধাবি, ১২ অক্টোবর- ‘আমি ম্যাচে চারটি ক্যাচ ধরেছি, আমার নামটা কি বলা যায় না?’- এভাবেই নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে কোচ রিকি পন্টিংয়ের কাছে আবদার করেন রাহুল তেওয়াতিয়া। তবে ২০১৭ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের কোচ পন্টিং অনেকটা মজার ছলেই নিয়েছেন কথাটি। অবশেষে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে, মাঠেই নিজেকে মেলে ধরছেন হরিয়ানার ক্রিকেটার তেওয়াতিয়া। শেলডন কটরেলকে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে প্রথম আলোচনায় আসা। সর্বশেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দলকে এনে দিলেন আরেকটি জয়।

রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল বেশ মন্থর। খুব সহজেই বাউন্ডারি বের করা যাচ্ছিল না। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ১৫৮ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭৮ রানেই ৫ উইকেট খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল রাজস্থান। সেখান থেকে রিয়ান পরাগকে সঙ্গে নিয়ে ৮৫ রানের জুটিতে দলকে ৫ উইকেটের জয় এনে দেন তেওয়াতিয়া। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে সানরাইজার্সের সেরা বোলার রশিদ খানকে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের সমীকরণ নিজেদের দিকে টেনে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সুতরাং সক্ষম ও কর্মক্ষম প্রত্যেক মানুসেরই উচিত বেঁচে থাকার তাগিদে ও আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন: ম্যাচসেরা হয়েও সমালোচনার মুখে ইমাম

শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৪ বাউন্ডারি, ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৪৫ রান। তার সঙ্গী রিয়ান ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষে করে অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ৪২ রানে। ম্যাচ শেষে এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।

তেওয়াতিয়ার ভাষ্যে, ‘আমাকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ভূমিকাই দেওয়া আছে দল থেকে। আমি ভাল ব্যাট করছিলাম, আত্মবিশ্বাস ছিল, প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও ভাল মারতে পারছিলাম। আপনি যখন আপনার ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট থাকবেন, তখন কাজটা সহজ। উইকেট পড়ছিল তাই এক পাশ ধরে রেখে আমি বাউন্ডারির জন্য বাজে বলের অপেক্ষায় ছিলাম।’

ম্যাচের কোনো অবস্থায়ই নিজের উপর বিশ্বাস হারাননি তেওয়াতিয়া। মাঠের চরিত্র বুঝে সতীর্থ রিয়ানকেও বলেছিলেন, মাঠে টিকে থাকতে। এ নিয়ে তেওয়াতিয়া বলেন, ‘আমি জানি নিজের উপর ভরসা রাখতে হবে। আমি সেটা রেখেছি। আমি জানতাম, বিশ্বাস থাকলেই পারব। আমি রিয়ানকে বলেছিলাম, উইকেট মন্থর, আমাদের শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। শেষ ৪ ওভারে যদি ৫০ রানও লাগে আমাদের হাতে শট আছে।’

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের কণ্ঠেও ছিলেন তেওয়াতিয়া এবং রিয়ানের নাম। তার ভাষ্যে, ‘আমার মনে হয় তেওয়াতিয়া আর তরুণ হিসেবে রিয়ান নিজেকে দেখিয়েছে। স্টোকসি (বেন স্টোকস) আজ পারেনি। উপরের চারজন মারতে পারেনি। কিন্তু আজ আমাদের গভীরতা দেখা গেল। স্টোকসি আসায় আমাদের দলের ভারসাম্য অনেক ভাল হয়েছে।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১২ অক্টোবর

Back to top button