
ঢাকা, ১১ জানুয়ারি- ‘পুলিশ এইডা (মাদক) বন্ধ করতে পারল না। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই দেহি হুন্ডায় কইরা মানুষ এই এলাকায় ভিড় করে। আর রাইতে গার্মেন্টতন মাইয়া মানুষ আইতে দেখলেই টিটকারি-মসকরা শুরু কইরা দেয়। গাঁজা-মদ খাইয়া শইল্লে হাত দিতেও ছাড়ে না।’
রাজধানীর খিলগাঁও নয়াপাড়ায় লালমিয়ার গলির বাসিন্দা সুরাইয়া খাতুন বলছিলেন কথাগুলো। বনশ্রীতে একটি গার্মেন্টে কাজ করা এই নারী জানালেন, কাজ শেষে বাসায় ফিরতে গিয়ে তাঁকেও একাধিক দিন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
খিলগাঁওয়ের বাপ্পির মাঠ, মালু মাঠ, লালমিয়ার গলি, পোড়াবাড়ীর মোড়, আদম আলীর টেক বস্তিসহ আশপাশের বেশির ভাগ এলাকায় মাদকাসক্ত বখাটে কিশোরদের কারণে সব সময় আতঙ্ক নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে নারীদের।
এ সম্পর্কে খিলগাঁও থানার ওসি ফারুকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি জয়েন করার পর (পাঁচ মাস) থেকে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে কিছু লোক অন্য এলাকায় চলে গেছে। বর্তমানে ইয়াবা রোধে তৎপরতা চলছে। তবে এই মাদক থেকে কিশোরদের রক্ষায় পারিবারিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মসজিদে মসজিদে গিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করছি।’
সরেজমিনে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, খিলগাঁও নয়াপাড়া এলাকায় অলিগলিতে সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কিশোরদের অবস্থান বাড়তে থাকে। মেরাদিয়া মেইন রোড থেকে নয়াপাড়ার আলী মিয়ার মসজিদের গলিতে এক নারী গার্মেন্টকর্মীকে উদ্দেশ করে অশালীন নানা কথা বলছে কয়েকজন কিশোর। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে রাহাত নামে এক কিশোর বলল, ‘ভাই-বেরাদাররা একসঙ্গে হইলে একটু মজা করি আর কি। আমরা তো তেমন কিছু করি না!’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনশ্রী এলাকার রিমা গার্মেন্টে কাজ করা ওই নারী বলেন, ‘ভাই, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও ভয় লাগে। লেগুনায় কইরা এইহান পর্যন্ত আসলেও ঘরে ঢোকার আগ পর্যন্ত পোলাপান উল্টাপাল্টা কথা কয়।’
আরও পড়ুন : বেপরোয়া কাউন্সিলর রতন
একই রোডের পোড়াবাড়ীর মোড়ে গাঁজা বিক্রি করেন কয়েক নারী। সন্ধ্যা থেকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দেখা গেল তাদের তৎপরতা। মোড়ের এক দোকানি জানালেন, মোটরসাইকেলযোগে কয়েক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে এসে হাবিবা, পেয়ারা আর সিমরান নামের তিন নারীর কাছে প্যাকেট দিয়ে যায়। পরে ওঁদের কাছ থেকে রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কিশোররা এসে কিনে নিয়ে যায়। ওই তিন নারীকে আশপাশের কেউ চেনে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানালেন, গাঁজা বিক্রেতা ওই তিন নারী আদম আলীর টেক বস্তিতে থাকেন বলে তিনি শুনেছেন।
লালমিয়ার গলি হয়ে আদম আলীর টেক বস্তিতে ঢুকতেই দেখা গেল, স্বপন মিয়ার রিকশা গ্যারেজের পাশে গাঁজা সেবনের জমজমাট আসর বসেছে। পরিচয় গোপন করে আলাপচারিতায় জানা গেল, নিয়মিতই এখানে গাঁজার আসর বসে। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলেও আবার ছেড়ে দেয়।
বস্তির পরিবেশ পরিবর্তন করতে কাজ করছেন বিল্লাল হুসাইন। তিনি ‘সানওয়ে’ নামে একটি স্কুল চালাচ্ছেন। বললেন, ‘এখানে নিম্ন শ্রেণির হাজারো মানুষের বসবাস। মাদকের কারবার, মাদকসেবী ও বখাটে কিশোর গ্যাং—সবই আছে এখানে।’
সূত্র: কালের কন্ঠ
আর/০৮:১৪/১১ জানুয়ারি









