কোনো দিন রাজনীতি না করেও পূর্ণমন্ত্রী, কে এই ডা. সামন্ত লাল সেন?

সিলেট, ১২ জানুয়ারি – দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সন্তান ও এশিয়ার বিখ্যাত বার্ন স্পেশালিস্ট হিসেবে সমধিক পরিচিত।
এর বাইরে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এ ছাড়া কখনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না তিনি। ফলে মন্ত্রী হওয়ার খবরে কিছুটা অবাক হয়ে পড়েছিলেন সামন্ত লাল।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে ফোন দেওয়া হয়েছিল বলে তার পরিবার সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সামন্ত লাল সেন ১৯৪৯ সালের ২৪ নভেম্বর হবিগঞ্জের নাগুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জিতেন্দ্র লাল সেন, যিনি সরকারি চাকরি করতেন। তবে তার পিতা জিতেন্দ্র লাল সেনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়।
তিনি সেন্ট ফিলিস হাইস্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ‘ডিপ্লোমা ইন স্পেশালাইজড সার্জারি’ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানি ও ইংল্যান্ডে সার্জারিতে আরও প্রশিক্ষণ নেন।
সামন্ত লাল সেন এমবিবিএস পাশ করার পর ১৯৭৫ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ঢাকায় বদলি হয়ে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন।
ডা. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেলে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম বার্ন বিভাগ চালু হয়। সামন্ত লাল সেন এই বিভাগ চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ২০০৩ সালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জন্য স্বতন্ত্র একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি এ ইউনিটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান। পরে সরকার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেন।
পরে এই ইউনিটটিকে স্বতন্ত্র একটি ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ নামে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই এখান থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু হয়। শুরু থেকেই সামন্ত লাল সেনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পান। সামন্ত লাল সেন ব্যক্তিজীবনে রত্না সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দেশে বড় কোনো আগুনের ঘটনা ঘটলেই তাদের চিকিৎসার ত্রাতার ভূমিকা রাখেন সামন্ত লাল।
সূত্র: সিলেটভিউ২৪
আইএ/ ১২ জানুয়ারি ২০২৪









