শাহজাহান ওমরের পক্ষে নেই উপজেলা আওয়ামী লীগ

ঝালকাঠি, ২০ ডিসেম্বর – দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী শাহজাহান ওমরের পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ।
গত ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দলের কার্যালয়ে এক সভায় আলোচনা সভায় রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৫ জন নেতাকর্মীর স্বাক্ষরে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
সভার বিবরণীতে জানানো হয়, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এলাকায় আসলেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা পরিচয় হওয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করেননি। তিনি এলাকায় এসে বিএনপির নেতাকর্মী, স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন। তিনি নৌকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে তার বিএনপির কার্যালয়টি ব্যবহার করেছেন। তিনি স্বাধীনতা বিরোধী তৎকালীন শান্তি কমিটির সভাপতির ছেলে ও থানা রাজাকার বাহিনীর কমান্ডারের ছেলেদের নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানানো হয়, ২০০১ সালে বিএনপির জনসমর্থন নিয়ে শাহজাহান ওমর সংসদ সদস্য ও পরবর্তীতে আইন প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন তিনি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা কর্মীদের নির্বাচনের কাজে লাগাতে চান না। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরুপায় হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মনিরুজ্জামান মনিরকে নিয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যথাযথ প্রচার অভিযানে নেমে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে এগিয়ে যাব।
এ বিষয়ে জানতে শাহজাহান ওমরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ‘নৌকার বিপক্ষে কাজ না করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ কতৃর্ক রেজুলেশন করা দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।’
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খায়রুল আলম সরফরাজ বলেন, শাহজাহান ওমর বিএনপির এমপি ও মন্ত্রী থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছেন তা রাজাপুরের মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। এরপর হঠাৎ করে তিনি নৌকা মার্কা নিয়ে এলাকায় নির্বাচন করতে আসলেন, অথচ দলের সভাপতি ও সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীদের ডাকলেন না। তিনি কার্যালয়কে নৌকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় বানিয়ে বিএনপির সমর্থক ও স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্তরসুরীদের নিয়ে নৌকার নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন। তাই আমরা সাধারণ সভায় রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের পক্ষে সকল নেতাকর্মীরা কাজ করবে। বিষয়টি অবহিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সভানেত্রীকে রেজুলেশনের কপি প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ২০ ডিসেম্বর ২০২৩








