ঢালিউড

পোশাক নিয়ে মন্তব্যের কারণে অনন্ত জলিলকে বয়কট করলেন শাওন

ঢাকা, ১১ অক্টোবর- ধর্ষণের প্রতিকারে নারীদের শালীনতা বজায় রেখে চলাফেরা করার পরামর্শ দেয়া অভিনেতা অনন্ত জলিলকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

রোববার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, ‘আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য জনাব অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম’।

তার এ বক্তব্যে ৮ হাজার লাইক, ৪ হাজার লাভ রিয়েক্ট পড়েছে। হা হা রিয়েক্ট পড়েছে ৩৯৯টি। তবে মন্তব্য পড়েছে মাত্র ৪৮টি। মন্তব্য অপশনটি পাবলিক করা হয়নি।

শুধু নির্ধারিত অডিয়েন্সেই মন্তব্য করার সুযোগ পেয়েছেন।

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি তার মন্তব্যে শাওনের উদ্দেশে লেখেন, ‘আপনি কি ছিলেন তার সাথে?? আমার অবশ্য বয়কটের বাড়তি পেইনটা নিতে হল না!’

ফেসবুকে তার টাইমলাইনের দেয়া ওই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে প্রীতি নামের একজন তার মন্তব্যে লিখেন, ‘মেয়েরা কী পরবে কী পরবে না এটা তার নিজস্ব পছন্দ।

এটাকে যদি কেউ ধর্ষণের কারন হিসাবে তৈরি করে। জনগনের মনে আরও মানসিক বিকার তৈরি করে তবে তার স্থান জেলখানা হওয়া উচিৎ। মানসিকতা না পরিবর্তন

হলে এদেশে রেপ কালচার থামবে না। ফাঁসির সঙ্গে সঙ্গে এ আইনটাও জরুরি যে কেউ মেয়েদের পোশাক, চলাফেরা, রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরা, চাকরি বা ব্যবসা করা

আরও পড়ুন:‌ ‘ছেলেদের মত একটা টিশার্ট পরে বের হয়ে যাও, মডার্ন মেয়ে তুমি!

নিয়ে কথা কোন নেগেটিভ কথা বলতে পারবে না। বললেই ৩ মাসের জেল। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাকা করতেই হবে। মানসিকতা পরিবর্তন কর না হলে

জেলে থাক। কারণ এরাই উসকে দেয়।’

প্রসঙ্গত, খোলামেলা পোশাক পরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে নারীদের উদ্দেশে অভিনেতা অনন্ত জলিল বলেছেন, এ ধরনের পোশাকের কারণে মানুষ আপনার মুখের পরিবর্তে আপনার শরীর দেখে। তারা অশ্লীল মন্তব্য করে এবং ধর্ষণের কথা চিন্তা করে।

শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অনন্ত জলিল।

৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নারীদেরকে নিজের ‘ভাই হিসেবে’ কিছু পরামর্শ দিতে শোনা যায় এই অভিনেতাকে।

ভিডিওটি তার স্ত্রী বর্ষার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও পোস্ট করা হয়েছে।

অনন্ত জলিল বলেন, ‘নারীরা (বাংলাদেশে) অশালীন পোশাক পরেন অন্য দেশের নারী, সিনেমা, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। এ ধরনের পোশাকের কারণে মানুষ আপনার মুখের পরিবর্তে আপনার শরীর দেখে। তারা (নারীদের সম্পর্কে) অশ্লীল মন্তব্য করে এবং ধর্ষণের কথা চিন্তা করে। আপনারা কি (নারীরা) নিজেকে আধুনিক বলে গণ্য করেন? আপনি যে পোশাকটি পরছেন তা কি আধুনিক নাকি অশ্লীল? একটি আধুনিক পোশাক বলতে কেবল আপনার মুখ দেখানো এবং শালীন পোশাক দিয়ে আপনার শরীর আবৃত থাকা বুঝায় যেটিতে আপনাকে সুন্দর দেখায়।’

তিনি আরও বলেন, মুখ ব্যতীত পুরো শরীর আবৃত হয় না এমন যেকোনো পোশাকেই নারীদের ‘অত্যন্ত খারাপ’ দেখায়।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘ছেলেদের মতো টি-শার্ট পরে আপনি রাস্তায় নামবেন এবং যখন সেখানে অসম্মানিত বা ধর্ষিত হয়ে ঘরে ফিরে আসবেন তখন হয় আপনি আত্মহত্যা করতে পারেন অথবা প্রকাশ্যে আপনি মুখ দেখাতে পারবেন না।’

‘শালীন’ পোশাক ধর্ষণ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা নিবৃত করবে উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, ‘আপনি যদি শালীন পোশাক পরেন তাহলে মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখবে।’

ভিডিওর শুরুতে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন অনন্ত জলিল।

ধর্ষণ করার আগে পুরুষদের দুবার ভাবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আপনার স্ত্রী, বোনের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে তাহলে আপনি কী করবেন?’

এন এইচ, ১১ অক্টোবর

Back to top button