জানা-অজানা

অর্থনৈতিক পরাশক্তি কার অবস্থান কেমন

আজহারুল ইসলাম অভি

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরাশক্তি। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২০’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার উল্লেখ আছে। ২৬ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণত জিডিপির আকার বিবেচনায় এনে অর্থনীতির আকার নির্ধারণ করা হয়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি

চীন

চীনের অর্থনীতি আকার এখন ১৪ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ ২৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ১৯৮৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চীনের গড় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে অত্যন্ত উচ্চহারে- ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৯ সালে অর্জিত ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ধারণা করা হচ্ছিল, এ দশক শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চীন। কিন্তু এই ধারণার পাঁচ বছর আগেই এটি ঘটবে বলে বলা হচ্ছে।

সেন্টার ফর ইকনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) নামে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, করোনা ভাইরাস মহামারী ও এর অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া চীনের অনুকূলে কাজ করেছে। করোনা ভাইরাস সংকট চীন যেভাবে সামাল দিয়েছে, এতে চীনের অর্থনীতিতে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আগামী বছরই জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু চীনের অর্থনীতিতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ করে। বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারীর সময় চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের আগেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে এবং ২০২০ সালে তাদের প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এ বছর ৫ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই চীনের সঙ্গে এর বৃহত্তম প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান কমে আসবে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন মনে করছে, ডলারের হিসাবে চীনের অর্থনীতির মূল্যমান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে যাবে আগে তা হিসাব করা হয়েছিল, এর পাঁচ বছর আগেই।

সিইবিআরের ডেপুটি চেয়ারম্যান ডগলাস ম্যাকউইলিয়ামস বলেন, এ পূর্বাভাসের বড় খবরটি হলো, চীনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ঘটছে দ্রুতগতিতে। আমরা ধারণা করছি, ২০২৫ সালে তাদের বর্তমান পাঁচসালা পরিকল্পনার মধ্যেই তারা একটি উচ্চআয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। আমরা এক বছর আগেও যা মনে করছিলাম, এর পাঁচ বছর আগেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে চীন।

যুক্তরাষ্ট্র

১৪৯ বছর ধরে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতির আকার এখন ২১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে তা আরেকটু বেশি- ২২ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ সঞ্চিত আছে এমন দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে- পরিমাণ ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু সিইবিআরের মতে, ২০২৮ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দেবে চীন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের অংশ ২০০০ সালে ছিল ৩.৬ শতাংশ। তা এখন বেড়ে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। এটি আরও বাড়বে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ চীন উচ্চআয়ের দেশে পরিণত হবে- যখন এর মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫৩৬ ডলারের বেশি। তবে তখনো যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে চীনের জীবনযাত্রার মান অনেক নিচুতে থাকবে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু আয় হচ্ছে ৬৩ হাজার ডলারেরও বেশি।

ভারত

ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বড় অর্থনীতি। তাদের অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির লক্ষ্য ছিল, এবার তাদের জিডিপি ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০২৪ সাল নাগাদ হবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু সিইবিআরের রিপোর্ট জানায়, ২০২৬ সাল নাগাদ ভারত হয়তো জার্মানিকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ জাপানকে ছাড়িয়ে ভারতের অবস্থান হবে তৃতীয়। অন্য এশিয়ান দেশগুলোও বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর তালিকায় ওপর দিকে উঠে আসবে।

জাপান

দেশটির অর্থনীতির আকার ৫ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের তৃতীয় বড় অর্থনীতির এই দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাত হচ্ছে ইলেকট্রনিক পণ্য। এ ক্ষেত্রে জাপান বিশ্বে এক নম্বর। ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার ক্ষত এখনো দেশটি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে সবার আশা ছিল, ২০২০ সালের অলিম্পিক জাপানের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু করোনায় তা সম্ভব হয়নি। সিইবিআরের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির পর জাপানের অবস্থান হবে চতুর্থ।

জার্মানি

বিশ্বের চতুর্থ বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি। দেশটির অর্থনীতির আকার ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে যাচ্ছে এমন অর্থনীতির মধ্যে জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে। গাড়ি, ভারী যন্ত্রপাতি, গৃহসামগ্রী আর রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনে জার্মানি সেরা। ভারতের অবস্থান তৃতীয়তে উন্নীত হওয়ার ফলে জার্মানি এ ক্ষেত্রে এক ধাপ পিছিয়ে পঞ্চম অবস্থানে চলে যাবে বলে মনে করছে সিইবিআর।

আরও পড়ুন- যে ভুলগুলো রান্নার সময় আমরা বারবার করি

ব্রিটেন

সিইবিআরের মতে, অর্থনৈতিক সামর্থ্যে ব্রিটেন বর্তমানে পঞ্চম। ২০২৪ সালে এটি ষষ্ঠ স্থানে চলে যেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে নেতিবাচক পড়তে পারে। অবশ্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে ব্রিটেন। এ ছাডা কানাডার অবস্থান হবে অষ্টম ও অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম।

বাংলাদেশের অবস্থান

সিইবিআরের মতে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধন হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১ হলেও ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়াবে ২৬-এ।

আডি/ ২৮ ডিসেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language