খুলনা

ঝিনাইদহ-খুলনা পর্যন্ত বিএনপির রোডমার্চ আজ

খুলনা, ২৫ সেপ্টেম্বর – সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগে রোডমার্চ করবে বিএনপি। আজ সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে শুরু করে মাগুরা-যশোর-নওয়াপাড়া-ফুলতলা হয়ে ১৬০ কিলোমিটার ঘুরে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দলটির রোডমার্চ কর্মসূচি।

রোডমার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে বিভাগীয় সমন্বয় সভাসহ বিভাগের ১০ জেলায় ও মহানগরে প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি। রোডমার্চ ঘিরে জনমানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। খুলনা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করেছে। সমাবেশে ৫ লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হবে বলে প্রত্যাশা দলের নেতাদের।

খুলনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মীর্জা আব্বাস। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।

সমাবেশে সভাপতিত্বে করবেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শািফকুল আলম মনা। পরিচালনা করবেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি।

পথসভা হবে ১০টি
আজ সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে রোডমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে মাগুরা-যশোর-নওয়াপাড়া-ফুলতলা হয়ে খুলনার শিববাড়ি জিয়া চত্বরে মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঝিনাইদহ থেকে খুলনা পর্যন্ত ১০টি পথসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি
রোডমার্চ শেষে খুলনার সমাবেশ সফল করতে বিএনপি নেতারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল তোরণ। পোস্টার সাটানো ও প্রচার পত্র বিলি করা হয়েছে। রোববার থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে খুলনা নগরীতে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোডমার্চ সফল করতে এবং বর্তমান আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা পোষণ করতে সর্বশ্রেণির ব্যক্তিবর্গকে উজ্জীবিত করতে সর্ব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে ১০ লাখ লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রোডমার্চকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নগরীর প্রবেশ দ্বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ২ শতাধিক তোরণ, নগরীর যশোর রোড, কেডিএ এভিনিউ, মজিদ স্মরণীসহ দলীয় কার্যালয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিলটন বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের সকল স্বাধীনতাকে হরণ করেছে। আওয়ামী অপশাসনে দেশের জনগণ আজ আর ভালো নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশের মানুষ এ সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। দেশের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে অবৈধ সরকারের হাত থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে বাঁচাতে বিএনপি রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করছে।

রোডমার্চ সম্পর্কে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বরের রোডমার্চ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অতীতের বিভাগীয় মহাসমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশের চেয়ে জনসমাগম বেশি হবে। বিএনপির আন্দোলনে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার চুরি করেছে। জনগণ এবার আর ভোট চুরি করতে দেবে না।

কেসিসি ও কেএমপির অনুমোদন
খুলনা বিভাগীয় রোডমার্চ শেষে জিয়ামহল চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) ১০ শর্তে সমাবেশের অনুমোতি দিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেসিসির এস্টেট অফিসার স্বাক্ষরিত অনুমতি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া সোমবার মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিক অনুমতি রয়েছে।

অস্থায়ী মঞ্চ ও সাউন্ড
রোডমার্চ শেষে খুলনা নগরীর শিববাড়ি জিয়া চত্বরে ৬টি ট্রাকে নির্মিত হবে অস্থায়ী মঞ্চ। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা মঞ্চ থাকবে। এছাড়া ১৬০টি মাইক থাকবে সমাবেশস্থলে। সমাবেশস্থলের জন্য আলাদা ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে।

১৫টি উপ-কমিটি গঠন
রোড মার্চ কর্মসূচি সফল করতে ১৫টি উপ কমিটি গঠন করেছে খুলনা বিএনপি।

অর্থ উপ-কমিটি: আজিজুল বারী হেলাল, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, আমীর এজাজ খান, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুল হাসান বাপ্পি।

সাংগঠনিক উপ-কমিটি: আবুল কালাম জিয়া, চৌধুরি শফিকুল ইসলাম হোসেন, মহানগর বিএনপির সকল সদস্যবৃন্দ, থানা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক/সদস্য সচিব বৃন্দ।

মঞ্চ নির্মাণ উপ-কমিটি: কাজী মাহমুদ আলী, মোল্লা খায়রুল ইসলাম।

মিডিয়া উপ-কমিটি: মিজানুর রহমান মিলটন, আশরাফুল ইসলাম নুর, সোহরাব হোসেন, রকিবুল ইসলাম মতি।

শৃঙ্খলা উপ-কমিটি: তৈয়েবুর রহমান, একরামুল হক হেলাল, মজিবর রহমান, উজ্জল কুমার সাহা, কাজী নেহিবুল হাসান নেহিম, আব্দুল্লাহ হেল কাফি সখা, ফারুক হিল্টন, আতাউর রহমান রনু, মান্নান মিস্ত্রি, শফিকুল ইসলাম শফি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাজিম বিশ্বাস, মোল্লা কবির হোসেন, আক্তারুজ্জামান তালুকদার সজীব, শেখ আবু সাইদ, শেখ আদনান ইসলাম দ্বীপ।

সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি: নুর ইসলাম বাচ্চু, শহিদুল ইসলাম, এহতেশামুল হক শাওন, আজাদ আমিন।

প্রচার উপ-কমিটি: শেখ সাদী ও হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ। আবাসন উপ-কমিটি : শের আলম সান্টু, আশরাফুল আলম নান্নু।

আপ্যায়ন উপ কমিটি: বদরুল আনাম খান।

চিকিৎসা উপ-কমিটি: ড্যাব নেতৃবৃন্দ।

আইনি সহায়তা উপ-কমিটি : অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার।

সাজসজ্জা উপ-কমিটি : স্ব স্ব থানার নেতৃবৃন্দ।

অভ্যার্থনা উপ-কমিটি: স ম আব্দুর রহমান ও বেগম রেহানা ঈসা, অ্যাডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, অ্যাডভোকেট মোল্লা মাসুম রশীদ।

এছাড়া যোগাযোগ উপ-কমিটি ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
আইএ/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Back to top button