অভিমত/মতামত

জেনে শুনে বিষপান কতোটুকু রাজনৈতিক বিচক্ষনতা,তা সহজেই অনুমেয়

সামুন ভূইয়া

“ন্যাড়া কতো বার বেল তলা যাবে” তা কারোরই আজ জানা নেই।যেখানে নির্বাচনের নুন্যতম পরিবেশ নেই,যেখানে দিনের ভোট সম্পন্ন করা হয় রাতেই,যেখানে একজন প্রার্থীর এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রের ভিতর থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়,যেখানে শাসক দলীয় চাওয়া আর না চাওয়ার ইচ্ছার শতভাগ বাস্তব প্রতিফলন ঘটে,সেই সব নির্বাচনের নামে তামাশাতে অংশ গ্রহন করে নির্বাচনের তথাকথিত শোভা বর্ধন জাতি আর দলের সাথে মাশকারা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।নি:সন্দেহে বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীক হচ্ছে “ধানের শীষ”।এই প্রতীকের সাথে জড়িয়ে আসে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ,অনুভুতি আর ভালোবাসা।এই প্রতীক উদীয়মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের শিকড়কে মজবুত আর দৃঢ্ ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রতীক।এই প্রতীকের সাথে বাংলাদেশের গনতন্ত্রমনা মানুষের ইজ্জ্বত,আব্রু আর অস্বিত্ব জড়িত।সুতরাং বার বার শাসকদলীয় ঘৃণিত ইচ্ছার প্রতিফলন গঠানোর জন্য তথাকথিত নির্বাচনের নামে তামাশাতে অংশ গ্রহন করা কখনো বুদ্ধিদীপ্ত একটি রাজনৈতিক পরিপক্ক কৌশল হতে পারে না।

একটু চিন্তা করুন,শুরু হয়েছে বাংলাদেশের স্হানীয় পরিষদ নির্বাচন।বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী বিস্বাসী কোটি কোটি দেশপ্রেমিক শহীদ জিয়ার বিশ্বস্ত আর ভালোবাসার একনিষ্ট কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী।তারা যদি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে তবে তাদের অবস্হা সহজেই অনুমেয়।নিজ নিজ এলাকায় তাদের শতভাগ জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও শুধুই মাত্র “ ধানের শীষের” প্রতীকের কারনেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে শাসক দলীয় রোশানলে পরতে তারা বাধ্য।বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও তাদের ললাটে জুটবে পরাজয়ের কলংকিত তীলক।এছাড়া স্হানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রতীকের জন্য প্রার্থীদের ছুটতে হয় নেতৃত্বের দোয়ারে দোয়ারে।এক শ্রেনীর নেতৃত্ব দলীয় প্রতীক বরাদ্দের নামে হরিলুট শুরু করে সর্বত্র।তাদের রাজনৈতিক বানিজ্য হয় জমজমাট। প্রার্থীরা নির্বাচন সামনে রেখে এলাকাতে সময় দেওয়ার পরিবর্তে সময় দিতে হয় দলীয় প্রতীক পাওয়ার তদবীরের পিছনে।এটা একজন গ্রামীন জনপদে বেড়ে ওঠা খাঁটি রাজনৈতিক কর্মীর জন্য অস্বস্তিকর আর বেদনার।

অন্যদিকে শত প্রতীকূলতা মোকাবিলা করে যারাই অতীতে”ধানের শীষের” পক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন,দেখা গিয়েছে তারা হয়তো নিজেদের এলাকার জনসাধারণের স্বার্থে নতুবা ভয় ভীতির কারণেই বাধ্য হয়েই শাসকদলের সাথে বিভিন্ন দহরম মহরমে লিপ্ত হতে বাধ্য হন,ফলশ্রুতিতে আস্তে আস্তে তারা একাকার হয়ে যান তাদেরই রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় ধারক আর বাহক নতুবা তাদের উপর নেমে আসে অমানিশার কালো থাবা।কেউ বা মামলা হামলার স্বীকার হয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নতুবা বিভিন্ন কাল্পনিক অজুহাতে সাময়িক বহিষ্কার।জেনে শুনে বিষ পান করা কতোটুকু রাজনৈতিক বিচক্ষনতা তা সহজেই অনুমেয়।

অনেকেই একটি খাড়া অজুহাত দাঁড় করিয়ে বলেন,নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে বিএনপির অস্বিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে-কর্মীরা মনোবল হারাবে।বিএনপি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন চুড়াই উৎরাই পার হয়ে আজ নি:সন্দেহে বাংলাদেশ তথা দক্ষিন এশীয়ার সর্ব বৃহত্ত একটি রাজনৈতিক দলে পরিনত হয়েছে।বিএনপি কি কচু পাতার পানি যে ধাক্কা দিলেই নি:শ্বেষ হয়ে যাবে।আমরা ভূলে গেলে চলবে না দীর্ঘ নয় বছর পতিত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব আর এরশাদের অধীনে সকল নির্বাচন বর্জনই বিএনপিকে এনে দিয়েছিলো তার কাংখিত সাফল্য।এখানে মনে করার কোন অবকাশ নেই যে,দলীয় প্রতীকে পাতানো আর সাজানো নির্বাচনে অংশগ্রহন করার মধ্যেই রাজনৈতিক বিচক্ষনতা আর দুরদর্শীতা নিহীত।

স্বীকার করছি অবশ্যই স্হানীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন একটি দলকে চাঙ্গা কিংবা মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর অন্যতম একটি হাতিয়ার।কিন্তু শুধু মাত্রই প্রতীকের কারণে সহজ সরল দলীয় নেতাকর্মীদের শাসক গোষ্টি আর তার তল্পীবাহক প্রশাসনের রক্ত চক্ষুর রোষানলে পরার কোন মানে হতে পারে না।দলীয় প্রতীক বরাদ্ধ না করে বরং উন্মোক্ত করে দেওয়া হউক সর্বত্র তাতে উপকৃত হবে দল আর দলের সাধারন কর্মী সমর্থক।মান সম্মান,ইজ্জত আর আব্রু রক্ষা হবে “ ধানের শীষের”।

Back to top button