আসাম

আসামের বন্যায় পাঁচ লাখ মানুষ আক্রান্ত

দিসপুর, ২৩ জুন – ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। রাজ্যটির প্রায় ২২টি জেলায় বন্যার পানির পরিমাণ বেড়েছে। ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জুন) আসামের রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ১,৩৬৬টি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সারা দিন বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ৪ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ সরাসরি বন্যার কবলে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বহু এলাকা থেকেই নিখোঁজের খবর আসছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জার্মান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নলবাড়ি, বরপেটা, লখিমপুর, বাকশা, তমুলপুর, দাড়াং এবং কোকড়াঝাড় অঞ্চলে। এই জেলাগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ ফসল।

রাজ্য প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইছে। নিমতিঘাট এবং জোরহাটে লাল সংকেত জারি করে রাখা হয়েছে। ধুবরি এবং বেকি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মানস নদী এবং পাগলাদিয়া নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে। ফলে চারদিক থেকে পানি ঢুকছে বসতি অঞ্চলে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জেলায় হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক, নদী সংলগ্ন উঁচু বাঁধ এবং রেললাইনে অস্থায়ী শিবির বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ত্রাণ বণ্টনের জন্য ৭৯টি শিবির তৈরি করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬১ জন দুর্গতকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ১০টি বাঁধ, ৯২টি রাস্তা, তিনটি সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে বলে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৩ জুন ২০২৩


Back to top button
🌐 Read in Your Language