গাইবান্ধা

নিয়োগ পেলেন বিউটি বেগম, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন পাঁচ কর্মকর্তা

গাইবান্ধা, ১৪ ডিসেম্বর – অবশেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন। এক যুগের সংগ্রামে জেতা এই নারী হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিউটি বেগম। ১০ ডিসেম্বর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সোমবার আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন (বিউটি বেগমের নিয়োগ তথ্য) বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে ওই তথ্য জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিউটি বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় ২০০৮ সালে প্রথম হন। তবে তিনি নিয়োগবঞ্চিত হন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী নাজমা সুলতানাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগবঞ্চিত বিউটি বেগম এ নিয়ে গাইবান্ধার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত বিউটি বেগমকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে জজ আদালতে গিয়ে বিফল হন নাজমা সুলতানা।

আরও পড়ুন : লোভনীয় প্রস্তাবে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কাঁদছে সহস্রাধিক নারী

এরপর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। উচ্চ আদালত নাজমাকে শূন্যপদে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন বিউটি বেগম। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট জ্যেষ্ঠতা দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে বিউটি বেগমকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদালত অবমাননার আবেদন করেন বিউটি।

বিউটি বেগমের নিয়োগ বিষয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ব্যাখ্যা জানাতে সাবেক মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ ৫ কর্মকর্তাকে ১৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

এ অনুসারে আজ ৫ কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। অপর ৪ কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রমজান আলী, গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুমুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম আদালত উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। বিউটি বেগমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। সাবেক মহাপরিচালকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ শফিক মাহমুদ।

সুত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এ/ ১৪ ডিসেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language