সিলেট

চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি

সিলেট, ১৭ মে – জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে তার নিজের ও বাসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসার বাহিনীর সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সিলেটে নতুন যোগদান করা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার।

বুধবার (১৭ মে) বিকেল ৪টায় নগরভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন মেয়র আরিফ। মঙ্গলবার রাতে তার বাসার নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যদের প্রত্যাহারের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

মেয়র আরিফ বলেন, ‘মৌখিক বা লিখিত কোনোভাবেই আমাকে বা সিসিকের কাউকে নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের প্রত্যাহারের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। অথচ গত ছয় বছর ধরে মাসিক বেতনের বিনিময়ে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নগরভবন ও আমার বাসার অফিসসহ সিসিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে আমার বাসা ও বাসা সংলগ্ন অফিসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছয়জনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এতে আমার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন আমাকে সরকার থেকে দুজন গানম্যান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের মেয়াদে তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় মাসিক চুক্তিতে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। শিডিউল করে সিসিকের পানি শোধনাঘার ও যান্ত্রিক শাখাসহ (যেখানে সিসিকের বিভিন্ন গাড়ি ও মেশিন রাখা হয়) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন তারা। তাদের মধ্যে থেকে ছয়জনকে আমার বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।’

‘কিন্তু গতকাল রাতে হঠাৎ করে এ ছয়জনকে প্রত্যাহ্যার করে নেওয়ায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বাসা-সংলগ্ন অফিসে রাখা সিসিকের লাখ লাখ টাকার মালামাল এখন অনিরাপদ। প্রশাসনের অতি উৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড খোদ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। আমার বাসায় নিরাপত্তায় থাকা সদস্যদের কিন্তু সরকারের নির্দেশনায় প্রত্যাহার করা হয়নি।’

আগামী সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র আরিফুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি আমি মহানগরের যেখানে দিনে যাচ্ছি এবং আমার সঙ্গে যারা ছবি তুলছেন, দেখা যাচ্ছে রাতের বেলা তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাউকে কাউকে রিমান্ডে পর্যন্ত নিচ্ছে। আমি তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাকে প্রধানমন্ত্রী শপথ করিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের অতি উৎসাহী কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয় সেটিও সম্ভবত ভুলে গেছেন।’

মেয়র আরিফ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার বাসায় যদি এভাবে নিরাপত্তা দেওয়া আইনসিদ্ধ না হয় তবে দীর্ঘ ছয় বছর তারা কোথায় ছিলেন? আমি দেখছি, আমার নগরবাসী থেকে আমাকে দূরে রাখার সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি নগরবাসীর কাছে দোয়া চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ভবনের দেওয়ালে ফাটল ও বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরেন।

মেয়র বলেন, ‘কিছুদিন আগে নবনির্মিত টার্মিনাল ভবনের দেওয়ালে ফাটল ধরা পড়ার পরই সিসিকের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টার্মিনাল ভবনের নকশায় ত্রুটি রয়েছে। নকশাটি করেছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিট্যাক্ট বিভাগ এবং এসজিএমপি। তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ত্রুটি মেরামতের জন্য নকশাটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ১৭ মে ২০২৩

Back to top button