বিচিত্রতা

বিয়েতে ৩ কোটি টাকার বেশি উপহার পেলেন কনে

বিয়েতে কনেকে আত্মীয় স্বজনেরা উপহার উপঢৌকন দেয় এই প্রচলন বেশ পুরোনো। সবাই তাদের সাধ্যের মধ্যে উপহারসামগ্রী দিয়ে থাকেন। কিন্তু কখনো শুনেছেন যে, কনেকে তার আত্মীয়রা নগদ অর্থসহ কোটি টাকার উপহার দিতে? অবাক হলেও সত্য এবার ভারতের রাজস্থানে এমনি একটি বিয়েতে হয়েছে। সেখানে ৮১ লাখ নগদসহ ৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উপহার দিয়েছেন কনের মামারা।

ঘেবরি দেবী এবং ভানওয়ারলাল পোতালিয়ার কন্যা অনুষ্কা বুধবার সাত পাকে বাঁধা পড়েন। এই বিয়েবাড়িটি অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজস্থানের নগৌর জেলায়।

এ বিয়ে ঘিরে রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছে, উঠে এসেছে খবরের শিরোনামেও। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই বিয়ে নিয়েই সরগরম।

জানা গেছে, বিয়েতে পাত্রীর দাদা এবং মামা নগদ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে আসেন। পাশাপাশি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের গয়না ও জামাকাপড় এবং অন্যান্য সামগ্রী একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে করে নিয়ে আসেন তারা। এই দৃশ্য দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যান আমন্ত্রিত অতিথিরা।

পাত্রীর দাদা হলেন বুরডি গ্রামের বাসিন্দা ভানওয়ারলাল গরওয়া। তিনি এবং তার তিন ছেলে হরেন্দ্র, রামেশ্বর এবং রাজেন্দ্র অনুষ্কাকে একাধিক উপহার দেন। বাপের বাড়ির লোকের এই ব্যবহারে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ঘেবরি দেবী ও তার পরিবার। পাত্রীর দাদা ভানওয়ারলাল বলেন, অনুষ্কা হলেন তাদের পরিবারের একমাত্র মেয়ে। তার কারণেই পরিবারের তিন ছেলের এত প্রতিপত্তি হয়েছে।

তাই তাদের বাড়ির মেয়ের বিয়েতে তাকে উপহার দিয়ে ভরিয়ে দিতে চেয়েছেন তারা। এই বিয়েতে ৮১ লাখ টাকার পাশাপাশি সাড়ে ১৬ বিঘা চাষযোগ্য জমি, নগৌর রিং রোডের কাছে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জমি, ৪১ তোলা সোনা এবং ৩ কিলো রুপার গয়নাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি অনুষ্কাকে একটি নতুন খাদ্যসামগ্রীর বস্তা ভর্তি ট্রাক্টর-ট্রলি এবং একটি স্কুটি উপহার দিয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গিয়েছেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনা ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে।

এই প্রথার নাম হলো মায়রা। পাত্রীর বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে এই প্রথা পালন করার রীতি রয়েছে। এটিকে ‘ভাত’ও বলা হয়। এই প্রথায় পাত্রীর মামারা তাকে জামাকাপড়, গয়না, নগদ টাকা এবং অন্যান্য সামগ্রী উপহার হিসেবে দেন। পাত্রীর মায়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্যেও জামাকাপড় ও গয়নাগাঁটি দেওয়ার চল রয়েছে এই প্রথার অধীনে। মারওয়ারে এই প্রথাকে খুবই সম্মানের চোখে দেখা হয়। বহু শতাব্দী ধরেই মানুষ এই প্রথা পালন করে আসছেন।

আইএ


Back to top button
🌐 Read in Your Language