চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-৮: মোছলেমের অবর্তমানে আলোচনায় নাছির-ছালাম

মিঠুন চৌধুরী

চট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি – সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নগর আওয়ামী লীগের দুই নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন ও আবদুচ ছালামের নাম আসছে আলোচনায়।

নাছির চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান।

শূন্য হওয়া আসনটিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাসদের কার্যকরী সভাপতি প্রয়াত মইন উদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবদুল মোমিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজনের নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, মোহরা, ষোলশহর এবং বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৮।

৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান এ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ। এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

৭৫ বছর বয়সী মোছলেম ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদলের ‍মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হলে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারির উপ-নির্বাচনে মোছলেম উদ্দিন সংসদ সদস্য হন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড এবং বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ওই আসনে বিগত কয়েক দশক ধরে নির্বাচিত হচ্ছেন বোয়ালখালীর বাসিন্দা রাজনীতিবিদরা। তবে এবার আলোচনায় থাকা দুই আওয়ামী লীগ নেতাই নগরীর বাসিন্দা।

তাদের মধ্যে আবদুচ ছালাম নগরীর মোহরা এলাকায় থাকেন, যা চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসনের অধীন। আর আ জ ম নাছির থাকেন নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায়।

জানতে চাইলে সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, “আমাদের দল আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল, অনেকের নামই শোনা যাচ্ছে। অনেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী হবেন। কেউ নমিনেশন চাইতে পারেন, এটা সবার অধিকার। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

“আমি এই এলাকার বাসিন্দা। ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ সালে আমি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম, শুরুতে পেয়েওছিলাম। পরে নেত্রীর নির্দেশে আমি সরে আসি। তারপর নেত্রী আমাকে সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্ব আমি পালন করেছি।”

নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ছয় দফায় টানা ১০ বছর তিনি সেই পদে ছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদেও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ছালাম।

প্রশ্নের জবাবে আবদুচ ছালাম বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষ বলবে কতটা সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। সবদিক বিবেচনা করলে আমি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

“দায়িত্ব পেলে আমি সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এবারও দায়িত্ব পেলে অবশ্যই যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। নেত্রী যদি সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমি নির্বাচনে আগ্রহী।”

২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়ে চট্টগ্রামের মেয়র পদে বসেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বিলবোর্ড অপসারণ, পরিচ্ছন্নতায় কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও জলাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা এবং স্থানীয় রাজনীতির বিরোধসহ নানা কারণে দ্বিতীয় মেয়াদে আর দলের মনোনয়ন পাননি নাছির। বর্তমানে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানতে চাইলে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “সবাই বলছে, সেভাবে শুনছি। দলীয় প্রধান যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই ক্যারি করব। দলীয় সভানেত্রী যদি আমাকে নির্দেশ দেন নির্বাচন করতে, অবশ্যই করব। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যখন যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে আমি তা পালন করেছি।

“আমি দলের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সিংহভাগ এলাকা নগরীতে। ভোটারদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের বেশি নগরীর অংশে।”

নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, মোহরা, পূর্ব ও পশ্চিম ষোলশহর এবং বোয়ালখালী পৌরসভা ও বোয়ালখালী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন সারোয়াতলী, পশ্চিম গোমদণ্ডী, পূর্ব গোমদণ্ডী, কধুরখীল, শাকপুরা, পোপাদিয়া, চরণদ্বীপ, আমুচিয়া ও আহল্লা করলডেঙ্গা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ-চান্দগাঁও) আসনের আলোচিত বিষয় কালুরঘাট সেতু পুনর্নির্মাণ।

বোয়ালখালীর বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল সেতু নির্মাণের দাবিতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে ছিলেন সোচ্চার। সদ্য প্রয়াত মোছলেম উদ্দিন আহমদও সেতু নির্মাণ দেখে যেতে পারেননি।

এবারও উপ-নির্বাচনে এই সেতুর বিষয়টি ‍ঘুরেফিরে মূল আলোচনায় থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও এলাকার বাসিন্দারা।

কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আবদুল মোমিন বলেন, “জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ একমুখী কালুরঘাট সেতু পারাপারে বোয়ালখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখে তা অবসানের জন্য সেতুর দাবিতে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম ২০১৪ সালে।

“প্রয়াত দুই সাংসদ সেতুর দাবিতে আবেদন-নিবেদন করেও সেতু দেখে যেতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন, আমাদের সেতুটি যেন করা হয়।”

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ধারাবাহিকতায় নিজ এলাকায় সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান মো. আবদুল মোমিন।

এ আসনের দুই বারের এমপি জাসদের নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর মারা যান। বাদল জোট শরিক আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট করতেন। তার মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারির উপ-নির্বাচনে জয়ী হন নৌকার প্রার্থী মোছলেম।

সেলিনা খান বাদল বলেন, “চট্টগ্রাম-৮ আসনটি মইন উদ্দিন খান বাদলের। তিনি সবসময় এখানকার মানুষের পাশে ছিলেন। আমি তখন থেকেই উনার সঙ্গী হিসেবে এলাকার মানুষের সাথে আছি।

“উনার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। মহামারীকালে এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছে আমি গেছি, সহযোগিতা নিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তখন চেয়েছিলেন করোনায় যেন আমি মানুষের কাছে যাই।”

আওয়ামী লীগ থেকেই উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সেলিনা খান বাদল।বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, “মইন উদ্দিন খান বাদল দল করলেও তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইব। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি চাইলে আমি ভোট করব। এলাকার জনগণও চায় আমি ভোট করি।”

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
আইএ/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

Back to top button