সংগীত

‘পদ্মভূষণ’ প্রাপ্ত গায়িকা বাণী জয়রামের মরদেহ উদ্ধার

নয়াদিল্লি, ০৪ জানুয়ারি – আচমকাই চলে গেলেন সঙ্গীতশিল্পী বাণী জয়রাম! শনিবার চেন্নাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বর্ষীয়ান এই গায়িকার মরদেহ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

সংবাদ সংস্থা এএনআই এর মতে, নিজের ফ্ল্যাট থেকেই গায়িকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দক্ষিণী সঙ্গীতমহলে।

গত মাসেই ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন ‘আধুনিক ভারতের মীরা’ হিসেবে পরিচিত এই গায়িকা। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন পদ্ম সম্মান ঝুলিতে আসে তাঁর। সম্মান পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন বাণী জয়রাম। কিন্তু কে জানতো সশরীরে এই সম্মান গ্রহণ করতে পারবেন না তিনি!

তবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে গায়িকার, তা এখনও তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে চেন্নাই পুলিশের থাউসেন্ড লাইটস থানার কর্মকর্তারা। তদন্ত চলছে গায়িকার মৃত্যুর।

বাণী জয়রাম তামিল নাড়ুর ভেলোরে এক তামিল পরিবারে ১৯৪৫ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলন। তাঁর পরিবার ছিল শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত। ছোটবেলায় নাম ছিল কলাবাণী। তাঁর মা পদ্মাবতী, নিজের গুরু রঙ্গ রামানুজ আয়েঙ্গারের কাছে বাণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিয়ে যান। সেখানে বাণী কবি মুথুস্বামী দীক্ষিতের কিছু কবিতাও শিখেছিলেন। পরে তাঁকে কাদালুর শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার, টি আর বালাসুব্রহ্মণিয়ান এবং আর এস মণির মতো গুরুদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণাটকী সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে, বিয়ের পরে, তিনি স্বামী জয়রামের সঙ্গে মুম্বই চলে যান। তাঁর গানের দক্ষতা জেনে জয়রাম বাণীকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত বাণী। তাঁর পেশাজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়ে চলেছেন। সহস্রাধিক সিনেমাতে ১০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। গেয়েছেন অসংখ্য ভক্তিগীতি। নিজস্ব অ্যালবাম তো আছেই। ভারতে এবং বিদেশেও অসংখ্যবার একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। গত মাসেই ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন এই গায়িকা।

এম ইউ/০৪ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button