উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের ২৪ দিনে ৩৮ গুলির ঘটনায় নিহত ৬৮

ওয়াশিংটন, ২৪ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার মহামারী অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার হাফ মুন বে এবং সান মাতেও কাউন্টিতে পৃথক গুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়। তিন দিনের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যেই দ্বিতীয় গণ গুলির ঘটনা এটি। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৪ দিনেই ৩৮ গণ গুলির ঘটনা ঘটেছে দেশজুড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী পর্যন্ত অন্তত ৩৮টি গোলাগুলি বা বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। যদিও গণ গুলি উদাহরণ হিসেবে সরকারি কোনও সুস্পষ্ট রুপ রেখা নেই, তবে যেখানে অন্তত চারজন নিহত বা আহত হয় সেটিকে একটি গণ গুলি বলে সংজ্ঞায়িত করে সংস্থাটি।

সেই সংজ্ঞা অনুসারে, ২০২৩ সালে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৮টি গণ গুলি চালানো হয়েছে এবং নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৮ জন। সংস্থাটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুটি গণ গুলির ঘটনা ঘটছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গত বছর ৬৪৮টি গণ গুলির গণনা করেছে, যার মধ্যে ২১টিতে পাঁচ বা তার বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক গণ গুলির উল্লেখযোগ্য তালিকায় রয়েছে, গত ২১ জানুয়ারী লস অ্যাঞ্জেলেসের মন্টেরে পার্কে চীনা নববর্ষের উৎসবে বন্দুক হামলা। যেখানে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। গত মে মাসে টেক্সাসের উভালদে গণহত্যার পর এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে মারাত্মক গণ গুলি, যেখানে ১৯ শিশু এবং দুই শিক্ষক নিহত হয়েছিল।

এরআগে ২০ জানুয়ারী জর্জিয়ার সাগারেহো শহরের সাবেক এক সেনা সদস্যের গুলিতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বন্দুকধারী নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়াও গত সপ্তাহে, তুলারে কাউন্টিতে একটি গ্যাং-সম্পর্কিত শ্যুটিংয়ে ছয়জন মারা গিয়েছিল, যার মধ্যে একজন কিশোরী মা এবং তার ছয় মাসের শিশু ছিল।

অন্যদিকে বছরের শুরুর দিকে গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যের এনোচ শহরের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বীমা বিক্রয়কর্মী আত্মহত্যার আগে তার ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী, তার ৭৮ বছর বয়সী শাশুড়ি এবং তার পাঁচ সন্তানকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।

গবেষকরা বলছেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে গণগুলির ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, এর জন্য অনেকেই আমেরিকার বন্দুক নীতিকে দায়ী করেন। আত্মরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রাখার আবেদন করলেই অনুমতি মেলে। ফলে ১৮ ঊর্ধ্ব বেশিরভাগ নাগরিকের কাছেই অত্যাধুনিক বন্দুক রয়েছে। ফলে তা প্রয়োগের জন্য যে কোনও সময় হামলা ঘটনা ঘটে। প্রতি ক্ষেত্রে পুলিশ দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৪ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button