ত্রিপুরা

কংগ্রেস প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ বুধবার

আগরতলা, ২৪ জানুয়ারি – ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনক্ষণ এখনো স্থির করেনি। তবে বাম-কংগ্রেস জোটের শরিক দল কংগ্রেস বুধবার (২৫ জানুয়ারি) তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে আগরতলার ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ কথা জানান ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা।

এদিনের এ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির দুই মুখপাত্র নীতা চক্রবর্তী এবং উইং কমান্ডার অরুণা আচার্য্য।

বীরজিৎ সিনহা বলেন নির্বাচন ঘোষণা করার আদর্শ নির্বাচন বিধি লাগু হয়েছে কিন্তু শাসকদল বিজেপি তা মানছে না। তারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনেক উঁচু উঁচু করে দলীয় পতাকা লাগাচ্ছে একই অন্যান্য নিয়ম-কানুন ও ভঙ্গ করছে। বিরোধীদলগুলো যেখানে তাদের কর্মসূচি করছে এর আশেপাশ জায়গায় জড়ো হয়ে বিজেপি কর্মীরা পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে শাসক দলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে বলেও জানান।

তিনি আরো বলেন তিপ্রামথা দলকে জোটে পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী, কারণ মথার চেয়ারম্যান প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের নিয়মিত কথা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিপ্রা মথার নেতৃত্ব এখনো বলছে জোট করতে হলে তাদেরকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড গঠনের বিষয় নিয়ে, তবে কি কংগ্রেস জোট গঠনের জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বীরজিৎ সিনহা বলেন, যেহেতু কংগ্রেস দল ক্ষমতা নেই তাই লিখিত দেওয়ার বিষয়টি আসছে না।

প্রদ্যুৎ কিশোর কংগ্রেস দলের বিষয়ে অনেকটাই সহানুভূতিশীল কারণ তিনি এক সময় কংগ্রেস দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন বলেও জানান বীরজিৎ সিনহা।
এমন কি কংগ্রেস ও প্রদ্যুতের ডিএনএ একটি বলেও তার দাবি।

বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তবে কতগুলি আসন বাঘা বাঘের বিষয়ে কথা হচ্ছে তা এই মুহূর্তে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আলোচনা করা যাবে না বলে জানান।

নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম সম্পর্কে এদিনও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের দুইজন মন্ত্রীর নামে তারা অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত তাদের আটক করেনি পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় তারা পুরোপুরি অসন্তুষ্ট না হলেও, ত্রিপুরা পুলিশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পালন করছে, তাই অনেক সময় তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতি তাদের কাজের বিষয়টি যাতে আবার পর্যালোচনা করে এই বিষয়টিও প্রস্তাব আকারে তারা রেখেছেন বলে জানান।

মুখপাত্র নীতা চক্রবর্তী বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়মুক্ত পরিবেশে বিনা কারচুপিতে সুস্থভাবে যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে ত্রিপুরার ভোট প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা আবেদন জানাচ্ছেন।

সূত্র: বাংলানিউজ
আইএ/ ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button