বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইলন মাস্কের কোম্পানিতে বিল গেটসের বিনিয়োগ

চ্যাটজিটিপি নামে নতুন চ্যাটবট টুল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইতে কয়েক কোটি ডলার বিনিয়োগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাইক্রোসফ্ট। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) মাইক্রোসফ্টের সিইও সত্য নাদেলা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানানোর কয়েক দিন পরই ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইতে বিনিয়োগের কথা জানালো মাইক্রোসফ্ট।

মাইক্রোসফ্ট হলো ওপেনএআইয়েরর প্রাথমিক বিনিয়োগকারী। মূলত নিজের পণ্যগুলোর সঙ্গে আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইলন মাস্কের এ কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে বিল গেটসের কোম্পানিটি।

সোমবার একটি পৃথক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই বলে, মাইক্রোসফ্টের দীর্ঘমেয়াদি এ বিনিয়োগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে ব্যবহার করা হবে, যা নিরাপদ, দরকারী ও শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

নভেম্বরের শেষের দিকে, ওপেনএআই জনসাধারণের জন্য চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত করে দেয়। এটি এমন একটি সার্চিং প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীর তাৎক্ষণিক প্রশ্নের দীর্ঘ, চিন্তাশীল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তর দিতে সক্ষম।

মাইক্রোসফ্টের সিইও সত্য নাদেলা বলেন, বর্তমানে আমাদের কোম্পানি চলমান আর্থিক মন্দার প্রভাব থেকে মুক্ত, তা নয়। তবে আমরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবো।

ওপেনেএআইয়ের সঙ্গে চুক্তির পর মাইক্রোসফ্ট বলেছিল, শিগগির তারা নিজেদের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা অ্যাজুরের সঙ্গে চ্যাটজিপিটি যুক্ত করবে। যদি এটি সেখানে ভালো পারফর্ম্যান্স দেখায় তাহলে মাইক্রোসফ্টের অন্যান্য পণ্যতেও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা হতে পারে।

সোমবারের ঘোষণার আগে এবিআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষক ডেভিড লোবিনা বলেন, মাইক্রোসফ্টের এ বিনিয়োগে ওপেনএআই বিশাল সুবিধা পেয়েছে। এ অংশীদারত্বের ফলে নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ওপেনেএআইয়ের দরকার ছিল, তা পাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে গেলো।

ওপেনএআই হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানিয়ে গবেষণাকারী একটি সংস্থা। ২০১৫ সালে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান এটি প্রতিষ্ঠা করেন। আর চ্যাট জিপিটি’র চ্যাটবটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর গুগলের চেয়ে ভালোভাবে দিতে পারে।

টেক ব্লগাররা এটিকে গুগলের চেয়ে ভালো প্রযুক্তি বলছেন, কারণ এটিতে কোনোকিছু সার্চ দিলে গুগলের মতো অনেকগুলো লিংক দেখায় না। তার পরিবর্তে চ্যাটজিপিটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শুধু সঠিক উত্তরটি সামনে হাজির করে।

২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি চালু করা হয়। তখন মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে এটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখ অতিক্রম করে।

আইএ/ ২৩ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button